ন্যাশনাল ডেস্ক, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: যৌনাঙ্গে স্যানিটাইজার ঢেলে আগুন, লিভ ইন সঙ্গীর ভয়াবহ নৃশংসতার শিকার তরুণী। ঘটনাটি ঘটেছে সাইবার সিটি গুরুগ্রামের সেক্টর ৬৯-এ। জানা গিয়েছে ওই তরুণী ত্রিপুরার বাসিন্দা, বিএসসি বায়োটেকের ছাত্রী। সফদরজং হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন ১৯ বছর বয়সী আক্রান্ত তরুণী। নির্যাতিতার বয়ানের উপর ভিত্তি করে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার ও প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশকে দেওয়া বিবৃতিতে তাঁর ভয়ঙ্কর যন্ত্রণার কথা বর্ণনা করেছেন নির্যাতিতা। তিনি জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শিবমের সঙ্গে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর বন্ধুত্ব শুরু হয় এবং দ্রুত তাঁদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে। এরপর গুরুগ্রামে ঘর ভাড়া নিয়ে লিভ-ইন শুরু করেন দুজনে। কিছু সময় পরেই তরুণীর ওপর সন্দেহ শুরু করে যুবক। সেইসঙ্গে চলে শারীরিক নিগ্ৰহ।
নির্যাতন চরমে পৌঁছায় চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারিতে। অভিযোগ, প্রেমিক স্টিলের বোতল দিয়ে তরুণী মাথায় আঘাত করে, তাঁর মাথা দেওয়ালে ও আলমারিতে ঠুকে দেয়। তার পায়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এখানেই শেষ নয় বরং বর্বরতা আরও চরমে পৌঁছায়; অভিযুক্ত তরুণীর যৌনাঙ্গে স্যানিটাইজার স্প্রে করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপরেও থামেনি অভিযুক্ত; তরুণীর নগ্ন ভিডিও তুলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়, এমন অবস্থা করা হবে যাতে তিনি মা না হতে পারেন।
১৮ই ফেব্রুয়ারি রাতে নির্যাতিতা অভিযুক্তের ফোন থেকেই তাঁর মাকে ফোন করেন। অভিযুক্ত বাংলা জানত না আর সেই সুযোগে মাকে বাংলা ভাষায় গোটা ঘটনার কথা জানায়। নির্যাতিতার মা দ্রুত ১১২ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তরুণীকে উদ্ধার করে।
সফদরজং হাসপাতালে অসহায়ের মত কেঁদে আকুল তরুণীর মা। তিনি শিবমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন। নির্যাতিতার মা জানতেন না যে তাঁর মেয়ে শিবমের সাথে থাকছে; তিনি ভেবেছিলেন মেয়ে পিজিতে আছেন।
নির্যাতিতার বয়ান ও তাঁর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে গুরুগ্রাম পুলিশ অভিযুক্ত শিবমকে গ্রেফতার করেছে এবং তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে।

No comments:
Post a Comment