প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০০:০১ : গার্ডেনিং শুধু বাড়িকে সুন্দর করার জন্য নয়, এটি আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। ফুল গাছ যেমন বাড়ির সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনই নিজের হাতে চাষ করা অর্গানিক ফল ও সবজি শরীরের জন্য খুবই ভালো। আজকের ব্যস্ত জীবনে আমরা প্রায়ই অলস হয়ে পড়ি, যার ফলে নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। গার্ডেনিং করলে প্রতিদিনই কিছুটা শারীরিক পরিশ্রম হয়, যা পুরো শরীরের জন্য এক ধরনের ব্যায়াম। পাশাপাশি প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা যায়, মন ভালো থাকে এবং স্ট্রেসও কমে।
তবে গাছকে সুস্থ ও সবল রাখতে হলে সঠিক যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই আপনার বাগান থাকবে সবুজে ভরা এবং ফল-ফুলও দেবে প্রচুর।
গাছে জল দেওয়ার সঠিক উপায়
গাছের বৃদ্ধির জন্য সঠিকভাবে জল দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালে কম জল দিতে হয়, আর গরমকালে একটু বেশি জল দরকার হয়। রোদ বেশি থাকলে সকাল ও সন্ধ্যা—দু’সময়ই জল দেওয়া যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, মাটি যেন পুরো শুকিয়ে না যায় এবং অতিরিক্ত জল জমেও না থাকে। টবে জল বেরোনোর ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা সেটাও দেখে নেওয়া জরুরি।
মাটি প্রস্তুত করার পদ্ধতি
গাছ ভালো রাখতে হলে মাটির গুণগত মান ভালো হওয়া দরকার। আপনি সহজেই বাড়িতে পটিং মিক্স তৈরি করতে পারেন—
১ ভাগ উর্বর বাগানের মাটি
১ ভাগ কম্পোস্ট (গোবর বা ভার্মি কম্পোস্ট)
১ ভাগ বালি বা কোকোপিট
এর সঙ্গে এক মুঠো নিমখোলের গুঁড়ো মেশালে পোকামাকড়ের সমস্যা কম হয়। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন, কাঁকর বা পুরনো শিকড় সরিয়ে ফেলুন এবং ১-২ দিন রোদে শুকিয়ে নিন। এতে মাটিতে জল জমে না এবং শিকড় ভালোভাবে বাতাস পায়।
নিয়মিত ছাঁটাই
গাছের সুন্দর বৃদ্ধি ও আকৃতি বজায় রাখতে নিয়মিত ছাঁটাই করা জরুরি। শুকনো ও হলুদ পাতা দ্রুত কেটে ফেলুন। সাধারণত ৪–৬ সপ্তাহ অন্তর হালকা ছাঁটাই করা ভালো। ফল বা ফুলের গাছে নিচের পাতা সরিয়ে দিলে গাছ বেশি শক্তি ফুল বা ফল তৈরিতে ব্যবহার করতে পারে। সকাল বা সন্ধ্যা ছাঁটাইয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়।
পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ
গাছ সুস্থ রাখতে পোকামাকড় থেকে রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হালকা সংক্রমণ হলে সপ্তাহে ২–৩ বার স্প্রে করা যায়। বেশি হলে ৭–১০ দিন অন্তর কীটনাশক ব্যবহার করুন। বৃষ্টি হলে আবার স্প্রে করতে হবে। ফল ও সবজির গাছে ১০–১৫ দিন অন্তর জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা ভালো। নিম তেলের স্প্রে বা রসুনের জল খুব কার্যকর।
সার দেওয়ার সময়সূচি
গাছের পুষ্টির জন্য নিয়মিত সার দেওয়া জরুরি। প্রতি ৪–৬ সপ্তাহে কম্পোস্ট বা গোবর সার দিন। ফল ও সবজির গাছে ২–৩ সপ্তাহ অন্তর সার দেওয়া ভালো। মাঝে মাঝে মাটি নরম করে দিন এবং আগাছা পরিষ্কার করুন। এতে শিকড়ে সহজে জল ও অক্সিজেন পৌঁছায়।
এই সহজ টিপসগুলো মেনে চললে আপনার ছোট্ট বাগানও হয়ে উঠবে সবুজ, সতেজ ও ফলনে ভরপুর।

No comments:
Post a Comment