ঘরের পূজাঘরে কতটি মূর্তি রাখছেন আপনি? ভুলেও করবেন না এই ভুলগুলো - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, February 12, 2026

ঘরের পূজাঘরে কতটি মূর্তি রাখছেন আপনি? ভুলেও করবেন না এই ভুলগুলো





প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০০:০১ : হিন্দু ধর্মে প্রতিদিনের পূজা-পাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ভক্তরা মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করেন, আবার বাড়ির পূজার ঘরেও ভক্তিভরে উপাসনা করেন। বাড়ির এই পবিত্র স্থানকে ইতিবাচক শক্তি ও মানসিক শান্তির কেন্দ্র হিসেবে মনে করা হয়। তাই পূজার স্থান সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখা জরুরি। ভাঙা-চোরা জিনিস বা অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কখনওই মন্দিরে রাখা উচিত নয়।


তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—বাড়ির পূজাঘরে কতগুলো মূর্তি রাখা উচিত? কোন কোন মূর্তি রাখা ঠিক নয়? আর মূর্তি স্থাপনের সঠিক নিয়ম কী? চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

পূজাঘরে কতটি মূর্তি রাখা উচিত?

বাস্তু শাস্ত্র ও প্রচলিত ধর্মীয় মত অনুযায়ী, বাড়ির মন্দিরে সরলতা বজায় রাখাই শ্রেয়। অতিরিক্ত মূর্তি রাখলে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সাধারণভাবে ২ থেকে ৫টি মূর্তি রাখাই উত্তম বলে মনে করা হয়। এতে মন একাগ্র থাকে, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও সহজ হয় এবং ঘরে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে।

কোন মূর্তি বাড়ির পূজাঘরে না রাখাই ভালো?

বাড়ির পূজাস্থানে শান্ত ও সৌম্য রূপের দেবদেবীর মূর্তি রাখা শুভ বলে ধরা হয়। উগ্র বা ক্রুদ্ধ রূপের মূর্তি সাধারণত গৃহমন্দিরে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমন—নটরাজের তাণ্ডব রূপ, শনি দেবের উগ্র রূপ, রাহু-কেতুর প্রতীকী মূর্তি, মা কালী বা কালভৈরবের তীব্র রূপ ইত্যাদি। এই রূপগুলো শক্তি ও তপস্যার প্রতীক হলেও, গৃহস্থ পরিবেশে শান্ত মূর্তি রাখাই বেশি উপযোগী বলে মনে করা হয়। শান্ত রূপের মূর্তি ঘরে স্থিতি, প্রশান্তি ও ইতিবাচকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

পূজাঘর নিয়ে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

বাড়ির পূজাঘর উত্তর-পূর্ব দিকে (ঈশান কোণ) হলে তা শুভ বলে মনে করা হয়। বাস্তু মতে এই দিক শক্তির উৎস।

মূর্তিগুলোর মধ্যে অন্তত ১-২ ইঞ্চি দূরত্ব রাখা উচিত।

পূজাঘর কখনও শোবার ঘর বা বাথরুমের একেবারে পাশে হওয়া উচিত নয়।

সিঁড়ির ঠিক নিচে মন্দির স্থাপন করা অশুভ বলে ধরা হয়।

প্রতিদিন ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে এবং পরিষ্কার রেখে পূজাস্থানকে পবিত্র রাখা উচিত।

সবশেষে বলা যায়, পূজাঘর শুধু ধর্মীয় আচার পালনের জায়গা নয়, এটি মানসিক শান্তি ও ইতিবাচক শক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই নিয়ম মেনে, সরলতা বজায় রেখে এবং ভক্তিভরে পূজা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad