ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ভালোবাসা সুন্দর এক অনুভূতি। কিন্তু কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ একে যেন এক অন্য রূপ দিয়েছে; বিশেষ করে একতরফা ভালোবাসা। এই একতরফা ভালোবাসা যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তার প্রমাণ সম্প্রতি যোগী-রাজ্যে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। একতরফা ভালোবাসায় শিক্ষিকার সঙ্গে নৃশংস আচরণ দ্বাদশের এক পড়ুয়ার। ধারালো অস্ত্র দিয়ে সে তার শিক্ষিকার ওপর আক্রমণ করে এবং ঠোঁট কেটে শরীর থেকে আলাদা করে দেয়। উত্তর প্রদেশের মৈনপুরীতে ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। শিক্ষিকা টিউশন পড়াতে যাচ্ছিলেন, সেই সময় ছাত্রটি মাঝ রাস্তায় তাঁর পথ আটকায়। কিছুক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর শিক্ষিকার ওপর আক্রমণ করে বসে ছাত্রটি। শিক্ষিকার প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত ছাত্র। আহতকে আগ্রার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। পুলিশ এফআইআর দায়ের করে বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মৈনপুরী সদর কোতোয়ালি এলাকায়। দ্বাদশ শ্রেণির এক বিকৃত মস্তিষ্কের ছাত্র তাঁর শিক্ষিকার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। শিক্ষিকার ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে, পুলিশ মামলা দায়ের করে বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে।
শিক্ষিকার ভাইয়ের অভিযোগ, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অখণ্ড প্রতাপ সিং তাঁর বোনের ওপর নজর রাখত এবং প্রায়শই অশ্লীল কাজ করত। অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠকে (পিটিএম) শিক্ষিকা ওই ছাত্রটির মায়ের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ করলে, তার মা তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে অখণ্ড এই ধরণের আচরণ আর করবে না।
এরপর কিছু সময় সে ভালো আচরণ করে। কিন্তু পরে আবার তার অসভ্যতা শুরু করে। এতে বিরক্ত হয়ে, ওই শিক্ষিকা সেই স্কুলই ছেড়ে দেন এবং অন্য স্কুলে পড়াতে শুরু করেন। কিন্তু ছাত্রটি সেখানেও তাঁর পিছু নিতে থাকে। সে প্রতিদিন নতুন স্কুলে যাওয়ার পথে শিক্ষিকাকে থামিয়ে তাঁকে হয়রানি করতে শুরু করে এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দিতে থাকে।
শেষমেষ শিক্ষিকা যখন এর তীব্র প্রতিবাদ করেন, তখন ছাত্রটি ভয়াবহ পদক্ষেপ করে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০শে জানুয়ারি, শিক্ষিকা জ্যোতি রোডে এক পড়ুয়াকে পড়াতে যাচ্ছিলেন। সেখানেই ওঁত পেতে থাকা অখণ্ড তাঁকে থামিয়ে তাঁর সঙ্গে অশ্লীল আচরণ শুরু করে। শিক্ষিকা যখন কড়া প্রতিবাদ করে, তখন সে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মুখে আঘাত করে। অভিযুক্ত নিষ্ঠুরতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করে; শিক্ষিকার ঠোঁট দুটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে শরীর থেকে আলাদা করে দেয়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
জনসমক্ষে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক ঘটনাটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। শিক্ষিকাকে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে চিকিৎসকরা তাঁকে আগ্রায় রেফার করেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নগরীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ফতেহ বাহাদুর সিং জানিয়েছেন যে, শিক্ষিকার ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত অখণ্ড প্রতাপের বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ছাত্রের খোঁজে পুলিশি দল অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশের দাবী, শীঘ্রই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ছাত্রটি ওই শিক্ষিকার ঘাড়ে হাত দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং তারপর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। শিক্ষিকার ভাই মইনপুরী থানায় অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

No comments:
Post a Comment