প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০০:০১ : সারা সপ্তাহ মন দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করার পর রবিবার যেন জীবনে একটু শান্তি আর স্বস্তির শ্বাস নেওয়ার সুযোগ এনে দেয়। এই দিনটি অনেকের কাছে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটানোর, আবার নতুন সপ্তাহের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার দিন। কিন্তু আমরা যে রবিবারের এই ছুটি আজ স্বাভাবিক অধিকার বলে মনে করি, তা একদিন এত সহজ ছিল না। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম আর এক মহান ব্যক্তিত্বের অবদান।
রবিবারের ছুটির পেছনের ইতিহাস
১. ব্রিটিশ শাসন ও ধর্মীয় প্রভাব
ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রথম রবিবারের ছুটির ধারণা আসে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রতি রবিবার গির্জায় প্রার্থনা করতেন, তাই তারা এই দিনটিকে বিশ্রামের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় শ্রমিকদের জন্য সেই সুবিধা ছিল না—তাদের সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করতে হত, বিশ্রামের কোনও সুযোগ ছাড়াই।
২. নারায়ণ মেঘাজি লোকহাণ্ডে-এর সংগ্রাম
ভারতে শ্রমিকদের জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দাবিতে প্রথম জোরালো আন্দোলন করেন নারায়ণ মেঘাজি লোকহাণ্ডে, যিনি ভারতীয় শ্রম আন্দোলনের পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত। তিনি মনে করতেন, যেমন ব্রিটিশরা ধর্মীয় কারণে রবিবার ছুটি পান, তেমনই ভারতীয় শ্রমিকদেরও অন্তত একটি দিন পরিবার ও নিজের জন্য পাওয়া উচিত।
এই দাবীকে সামনে রেখে তিনি দীর্ঘ ৭ বছর আন্দোলন চালান। অবশেষে শ্রমিকদের ঐক্য ও তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ব্রিটিশ সরকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং ১০ জুন ১৮৯০ সালে রবিবারকে সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
৩. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
পরে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সপ্তাহে অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিশ্রামকে বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করে। ধীরে ধীরে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ রবিবারকে সার্বজনীন ছুটির দিন হিসেবে গ্রহণ করে।
আজ আমরা যে রবিবারের আরাম উপভোগ করি, তা আসলে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক গৌরবময় ইতিহাসের ফল। তাই এই দিনটি শুধু বিশ্রামের নয়, সংগ্রাম ও অধিকার অর্জনের

No comments:
Post a Comment