ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বেলুচিস্তান ও পাকিস্তান এখন একসাথে থাকতে পারে না', মন্তব্য বেলুচিস্তানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আখতার মেঙ্গলের। সোমবার লাহোরে অনুষ্ঠিত আসমা জাহাঙ্গীর কনফারেন্সের সময় পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার খোলাখুলি দাবী জানান বেলুচিস্তানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আখতার মেঙ্গল। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহর উপস্থিতিতে মেঙ্গল বলেন যে, বেলুচিস্তান ও পাকিস্তান এখন একসাথে থাকতে পারে না এবং বিচ্ছিন্নতাই একমাত্র বিকল্প। তিনি ইসলামাবাদের ওপর একীভূতকরণের সময় করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, জোরপূর্বক গুম এবং সামরিক বাড়াবাড়ির অভিযোগ করেন।
মেঙ্গল এই দাবীও প্রত্যাখ্যান করেন যে, বেলুচিস্তানের অশান্তি শুধু "বিদেশী হাত" এর কারণে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের আলাদা হওয়ার সময় ব্যবহৃত স্লোগান 'এখানে আমরা ঠিক, ওখানে তোমরা ঠিক"-এর কথা উল্লেখ করে তিনি পাকিস্তানের কাছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী রূপে থাকার আহ্বান জানান। এই বিবৃতির পর, তিনি জাতীয় পরিষদ থেকেও পদত্যাগ করেন।
আখতার মেঙ্গলের এই বক্তব্য এজন্য অত্যন্ত গভীর মনে করা হচ্ছে কারণ তিনি কোনও ছোটখাটো নেতা নন বরং বেলুচিস্তানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এই বার্তা বেলুচিস্তানের কোনও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নয় বরং পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোর থেকে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য পাকিস্তানের ক্ষমতার মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে কারণ তিনি প্রকাশ্যে দেশকে বিভক্ত করার কথা বলেছেন।
তাঁর ভাষণে, মেঙ্গল পাকিস্তান সরকারের ওপর তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা এবং বেলুচিস্তানের একীভূতকরণের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি কখনও পূরণ করা হয়নি। তিনি বেলুচিস্তানের জনগণের "বলপূর্বক গুম" এবং সামরিক অভিযানের বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন যে, এই পরিস্থিতিতে এখন বেলুচিস্তানের কাছে পাকিস্তানের সাথে থাকার কোনও কারণ বেঁচে নেই।
পাকিস্তান এবং বেলুচিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেঙ্গল বলেন, এখন দুটিকে আলাদা হয়ে যাওয়াই ভালো। তিনি পরামর্শ দেন, সবচেয়ে ভালো স্থিতি এটাই হতে পারে যে, উভয়েই একে অপরের সাথে শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে থাকুক। তার এই অবস্থান এবং সংসদ থেকে পদত্যাগ বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনকে একটি নতুন রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে, যা পাকিস্তানের অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

No comments:
Post a Comment