ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের (ইউএনএইচআরসি) অধিবেশনে, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানকে তুলোধোনা করেছে ভারত। ২৩শে ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১শে মার্চ জেনেভায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬১তম অধিবেশন। এই পর্বে ২৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের প্রতিনিধি অনুপমা সিং বলেছেন যে, "পাকিস্তান যদি জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়নকে 'ভুয়া' বলে মনে করে, তাহলে হয় তারা 'স্বপ্নের জগতে' বাস করছে, নয়তো 'লা-লা ল্যান্ড' (কাল্পনিক জগত)-এ।" তিনি বলেন যে, জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়ন বাজেট সম্প্রতি পাকিস্তানের আইএমএফের কাছে চাওয়া বেলআউট প্যাকেজের দ্বিগুণেরও বেশি।
পাকিস্তান ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এর অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। অনুপমা সিং বলেন যে, ওআইসি এই বিষয়ে নিজেকে পাকিস্তানের "ইকো চেম্বার" হতে দিচ্ছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের লাগাতার অপপ্রচার এখন ঈর্ষার মতো মনে হচ্ছে।
অনুপমা সিং বলেন, "পাকিস্তান যদি গত বছর জম্মু-কাশ্মীরে উদ্বোধন করা বিশ্বের সর্বোচ্চ চেনাব রেল সেতুকে ভুয়ো বলে মনে করে, তাহলে তারা কাল্পনিক জগৎ অর্থাৎ "লা-লা ল্যান্ড"-এ বাস করছে।"
ভারত সম্মরণ করিয়ে দিয়েছে, "জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং সর্বদা থাকবে।" অনুপমা সিং বলেন যে, ১৯৪৭ সালে এই অঞ্চলের ভারতে অন্তর্ভুক্তি সম্পূর্ণ আইনি এবং চূড়ান্ত ছিল। তিনি আরও বলেন, আসল সমস্যা হল পাকিস্তান কর্তৃক অধিকৃত ভারতীয় অঞ্চল এবং ইসলামাবাদের উচিৎ সেগুলি খালি করা।
গণতন্ত্র সম্পর্কে পাকিস্তানের মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, যে দেশে নাগরিক সরকার তাদের পূর্ণ মেয়াদ পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়, সেখান থেকে গণতন্ত্র সম্পর্কে শেখা কঠিন। সাম্প্রতিক লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের ভালো উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের মানসিকতা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং উন্নয়নের পথ বেছে নিয়েছে।'
ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে "রাষ্ট্র-স্পন্সরিত সন্ত্রাসবাদ"-এর মাধ্যমে এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ করেছে। ভারতীয় দূত বলেন যে, আন্তর্জাতিক ফোরামে বিবৃতি দেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিৎ তার অভ্যন্তরীণ সংকটের দিকে মনোনিবেশ করা।

No comments:
Post a Comment