নির্যাতিতার ন্যায়ের দাবীতে উত্তরকন্যা অভিযান, পুলিশের লাঠিচার্জে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, February 26, 2026

নির্যাতিতার ন্যায়ের দাবীতে উত্তরকন্যা অভিযান, পুলিশের লাঠিচার্জে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি



কলকাতা, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০:১০:০১ : নির্যাতিতার ন্যায়বিচারের দাবীতে আদিবাসী জনজাতিদের উত্তরকন্যা অভিযান ঘিরে শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি এলাকায় চরম উত্তেজনা। বিক্ষোভরত জনজাতিরা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলতেই পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে এবং জলকামান ব্যবহার করা হয়। তাতে জমায়েত কিছুটা ছত্রভঙ্গ হলেও পরিস্থিতি এখনও রণক্ষেত্রের মতো রয়ে গেছে।



উত্তরকন্যা অভিযানের পথে আদিবাসী সংগঠনগুলির ‘জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চ’-এর মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা অত্যাচার ও হেনস্থার প্রতিবাদে সোমবার বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ শিলিগুড়ি শহর থেকে রাজ্য সরকারের শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যা-এর উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করেন।



মিছিল এগোতে থাকলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও পুলিশের দাবী, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।



আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁদের অভিযোগপত্র গ্রহণ না করেই বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য দরজা খোলা রয়েছে। এই ঘটনার জেরে উত্তরকন্যা চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।



গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর এক আদিবাসী পরিবারের পৈতৃক জমি অবৈধভাবে দখল ও হস্তান্তরের চেষ্টা করে দুই ব্যক্তি। পরিবারটি এর প্রতিবাদ করলে, ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক আদিবাসী মহিলার উপর নৃশংস শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। মারধরের জেরে ওই মহিলার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং গত ৮ জানুয়ারি তিনি অকাল প্রসব করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, গর্ভাবস্থায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণেই জন্মের মাত্র তিন দিন পর নবজাতকের মৃত্যু হয়।



ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার দাবীতে এদিন উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দেয় আদিবাসী সংগঠনগুলি। অভিযান শুরু হতেই তিনবাত্তি মোড়ের কাছে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকে দেয়। কিন্তু উত্তেজিত জনতা সেই ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে জলকামান ব্যবহার করে, পরে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হলে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।



এই বিষয়ে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, “পুলিশ উত্তরকন্যা অভিযানে জোরপূর্বক বাধা দিয়েছে। লাঠিচার্জ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অশান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। আমরা ওই আদিবাসী মহিলার উপর অত্যাচারের দ্রুত ন্যায়বিচার চাই।”

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad