কলকাতা, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০:৫৫:০১ : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ দ্রুত চড়ছে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবার ‘পিপলস ম্যানিফেস্টো’কে সামনে রেখে বড় রাজনৈতিক চাল দিয়েছে। দলের দাবী, এই ইস্তেহার উপরের স্তর থেকে নয়, বরং সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই তৈরি হবে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের জন্য আলাদা একটি ‘মিনি ইস্তেহার’ তৈরির কাজও চলছে।
রাজ্যজুড়ে বিজেপি একটি ‘সাজেশন ক্যাম্পেইন’ শুরু করেছে, যাকে তারা জনআন্দোলনের রূপ দিতে চাইছে। গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গা থেকেই মানুষ নিজেদের সমস্যা ও প্রত্যাশা লিখে জমা দিচ্ছেন। সূত্রের খবর, এই মতামতগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে— কাটমানি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ভয়মুক্ত সমাজ গঠন, সিন্ডিকেট রাজের অবসান, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, যুবকদের জন্য চাকরি এবং রাজ্য থেকে শ্রমিকদের বাইরে চলে যাওয়া রোধের মতো বিষয়গুলি।
এবার বিজেপি আঞ্চলিক কৌশলের দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে। উত্তরবঙ্গের ৮টি জেলা—কোচবিহার থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত—নিয়ে আলাদা একটি মিনি ইস্তেহার তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে প্রতি বছর ২০ লক্ষ চাকরি, উত্তরবঙ্গে একটি আইআইটি স্থাপন এবং যুবকদের জন্য শর্তসাপেক্ষে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার মতো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
দলের দাবী, এই মিনি ইস্তেহার মূল ইস্তেহারেরই অংশ হবে এবং উত্তরবঙ্গের বিশেষ চাহিদার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হবে। তাদের লক্ষ্য, নীতি নির্ধারণ হবে নিচু স্তর থেকে, শুধু নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে নয়। জানা যাচ্ছে, মার্চের প্রথম সপ্তাহেই বিজেপির পূর্ণাঙ্গ ইস্তেহার প্রকাশিত হতে পারে।
অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) বিজেপির এই কৌশলকে ‘নির্বাচনী জুমলা’ বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবী, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ‘যুব সাথী’-র মতো প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা মানুষের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি শুধু বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, কিন্তু বাস্তবায়নের কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই।
তৃণমূলের বক্তব্য, “আমরা কাজ করি, ওরা শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়। মানুষ সবই দেখছে।” তাদের দাবী, তাদের ইস্তেহার শুধু রাজ্যের জন্য নয়, দেশকেও দিশা দেখায়।
সব মিলিয়ে, বাংলার রাজনীতি এখন ‘মডেল বনাম মডেল’-এর লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। একদিকে বিজেপির ‘পিপলস ম্যানিফেস্টো’ ও বড় প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে তৃণমূলের চলমান জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং সরাসরি আর্থিক সহায়তার মতো বিষয়গুলোই এবার ভোটের মূল ইস্যু হতে চলেছে।

No comments:
Post a Comment