প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:০৩:০১ : আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের আবহে ইরান ও ভারতের কূটনৈতিক যোগাযোগ ক্রমশ বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় অন্তত তিনবার দুই দেশের কূটনীতিকরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সর্বশেষ ঘটনা ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী Saeed Khatibzadeh-এর বৈঠককে ঘিরে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত Raisina Dialogue চলাকালীন জয়শঙ্কর খাতিবজাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে দুই পক্ষের মধ্যে ঠিক কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার জয়শঙ্কর ফোনে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচি-র সঙ্গে কথা বলেন। একই দিন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রী দিল্লীতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে যান। সেখানে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইর স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় তিনি অংশ নেন এবং শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এই মুহূর্তে খাতিবজাদে দিল্লীতেই রয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন নিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেন। তার কথায়, “ট্রাম্প নিউইয়র্কের মেয়রও নির্বাচন করতে পারেন না, তাহলে তিনি কীভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বেছে দেবেন?”
তিনি আরও বলেন, “এটি একেবারেই ঔপনিবেশিক মানসিকতার উদাহরণ। যারা নিজেদের দেশে গণতন্ত্রের কথা বলে, তারাই আবার ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সরাতে চায়।”
এ সময় তিনি ইরানের যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena-র হিন্দ মহাসাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনাতেও প্রতিক্রিয়া দেন। খাতিবজাদে বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। জাহাজটি খালি ছিল এবং তাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। ওই মহড়ায় অংশ নিতে আসা বহু তরুণ ইরানি নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাতে ভারত নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইরান যখন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের উপর হামলা চালায়, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী ওই দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “সামরিক সংঘাত কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার পথেই সমাধান চায় ভারত।

No comments:
Post a Comment