প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০১ মার্চ ২০২৬, ২০:৩৫:০১ : মধ্যপ্রাচ্যে জ্বলতে থাকা ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত এখন ধীরে ধীরে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কাঁচা তেল ও জ্বালানি বহনকারী প্রায় ১৫০টি তেলবাহী জাহাজ বর্তমানে উপসাগরের খোলা সমুদ্রে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী পার হতে এড়িয়ে চলছে।
কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ইরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেয় বা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে বৈশ্বিক গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। পৃথিবীর প্রায় ২০% তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। Bloomberg-ও সতর্ক করেছে যে, এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বড় জ্বালানি সংকট ডেকে আনতে পারে।
কেন এশিয়ার উদ্বেগ বাড়ছে?
এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে কাতার, যা বিশ্বের অন্যতম বড় গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ। কাতারের প্রায় সমস্ত গ্যাস রপ্তানি হরমুজ প্রণালী দিয়েই হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে এশিয়ার দেশগুলোর ওপর।
ভারতের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। ভারত তার মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৪০% কাতার থেকে আমদানি করে। গত বছরে কাতার মোট ৮২.২ মিলিয়ন টন গ্যাস রপ্তানি করেছে, যার বড় অংশ এশিয়ায় গেছে। এর মধ্যে চীন ছিল সবচেয়ে বড় ক্রেতা এবং ভারত দ্বিতীয় স্থানে। এছাড়া তাইওয়ান, পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়াও কাতারের গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা
বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-এর সময়কার জ্বালানি সংকটের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তখন ইউরোপে গ্যাসের ঘাটতির কারণে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল। এবার সেই আশঙ্কা এশিয়াকে ঘিরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাতারের গ্যাসের বিকল্প খুঁজে পাওয়া এখনই সহজ নয়। যদিও চীনসহ কিছু দেশ আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
বর্তমানে বাজারে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট। শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১১টি এলএনজি ট্যাঙ্কার তাদের যাত্রা মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছে। কাতারের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত-ও একই সমুদ্রপথ ব্যবহার করে জ্বালানি রপ্তানি করে।
যদিও কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা QatarEnergy এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রপ্তানি বন্ধ করেনি, তবুও পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দামের সঙ্গে এলএনজি চুক্তি যুক্ত থাকায়, তেলের দাম বাড়লে গ্যাসের দামও দ্রুত বাড়বে।
এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব তুরস্ক-এর ওপরও পড়ছে। দেশটি তার প্রায় ১৫% গ্যাস সরবরাহ সরাসরি ইরান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানি করে।
যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তুরস্কসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে ভারত, জাপানসহ অন্যান্য দেশে গ্যাসের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের

No comments:
Post a Comment