নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া, ২৫ মার্চ ২: বসন্ত মহামারীর কবল থেকে বাঁচতে শুরু হয়েছিল বাসন্তী মায়ের আরাধনা। সে প্রায় দেড় শতাধিক বছর আগের কথা। সেই থেকে আজও পুরনো আচার-বিধি মেনে ভক্তি-শ্রদ্ধার সঙ্গে বাসন্তী মায়ের পুজো করে আসছেন নদীয়াড়া গ্রামের মানুষজন। আজ সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত উৎসবের চারদিন নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাসন্তী পুজো দেখতে ভিন জেলা এবং ভিন রাজ্য থেকে আসা পুণ্যার্থীদের ঠাসা ভিড় রয়েছে এই নদীয়াড়া গ্রামে।
কথিত আছে, দেড় শতাধিক বছর আগে বসন্ত মহামারীর প্রকোপ দেখা দিয়েছিল পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের নদীয়াড়া গ্রাম সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে। সেসময় চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে। তখন আতঙ্কে গ্রামছাড়া হতে শুরু করেছিলেন গ্রামবাসীরা। গ্রামে ঘটতে থাকে নানান অঘটন। সেই সময় বাসন্তী মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে এবং এক সন্ন্যাসী বাবার পরামর্শে নদীয়াড়া গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে বাসন্তী মায়ের পুজোর আরাধনা শুরু করেন গ্রামবাসীরা। মায়ের আরাধনার পরেই রোগমুক্ত হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। গ্রামছাড়া মানুষেরাও ধীরে ধীরে গ্রামে ফিরে আসেন। আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন গ্রামবাসীরা।
সেই সময় থেকে এখনও পুরনো আচার-বিধি মেনে বাসন্তী পুজোর আরাধনা করে আসছেন গ্রামবাসীরা। এই পুজো দেখতে ভিন জেলা তো বটেই ভিন রাজ্য থেকেও বহু পুণ্যার্থী এবং দর্শনার্থীরা ভিড় জমান পুজোর চারদিনে। আলাদা উৎসবের চেহারা নেয় গোটা গ্রাম। পুজোর চারদিনে জনপ্লাবন দেখা যায় গ্রামে। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, শুদ্ধ মনে বাসন্তী মায়ের আরাধনা করলে ইচ্ছা পূরণ হয় মানুষের। আর তাই বাসন্তী পুজোয় মনোকামনা পূরণ করতে ভিড় জমায় সাধারণ মানুষ ।
বাসন্তী পুজোর চারদিন অর্থাৎ সপ্তমী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত গ্রামীন যাত্রাপালা, সাংস্কৃতিক এবং ভক্তিমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে গ্রামে। পুজোর চারদিন গ্রামে কোনও রকম আমিষ জাতীয় খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ থাকে। প্রতি বছরের মতো এবছরও ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে মায়ের আরাধনায় মেতে উঠেছেন নদীয়াড়া গ্রাম সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম এই নদীয়াড়া। পাহাড়, জঙ্গল আর লালমাটির ঘেরা এই গ্রামে বছরের এই একটা সময় যেন ভিন্ন রূপ নেয়। চৈত্রে শেষ লগ্নে যখন গ্রীষ্মের দাবদাহ শুরু হয়, ঠিক তখনই নদীয়াড়ায় শুরু হয় বাসন্তী মায়ের পুজো। শুধু এই গ্রাম নয়, আশেপাশের গ্রাম, এমনকি অন্যান্য জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ এই পুজোতে ভিড় করেন। কারণ, এই পুজো শুধুই এক ধর্মীয় আচার নয়, এটি নদীয়াড়া গ্রামের মানুষদের বিশ্বাস, ইতিহাস ও অস্তিত্বের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে।

No comments:
Post a Comment