কলকাতা, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৮:১০:০১ : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ভোটার তালিকার বিশেষ গহন পুনর্বিবেচনা (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে মতুয়া সম্প্রায়ের মানুষদের অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) মতুয়া সম্প্রায়ের কুলমাতা বীণাপাণি দেবীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্র এমন মানুষের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তুলছে, যারা বহুদিন ধরে এই দেশের নাগরিক। মতুয়া সম্প্রায়ের কুলমাতা বীণাপাণি দেবী ‘বড়ো মা’ নামেই অধিক পরিচিত।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন,“এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ষড়যন্ত্রের ফলে আমাদের মতুয়া ভাই-বোনদের অস্থিরতা ও বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে এখানে রাজনীতি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “তাদের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই দেশের নাগরিক, যাদের ভোটে সরকার গঠিত হয়, তাদেরই আবার নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁর সরকার সম্প্রদায়ের অধিকার খর্ব করার যেকোনও পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে। তিনি বলেন,“এই অন্যায় আমরা কোনওভাবেই মেনে নেব না। আমার মতুয়া ভাই-বোন এবং বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। আমরা বাংলার মানুষের কোনও ক্ষতি হতে দেব না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বীণাপাণি দেবীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ছিল এবং তিনি তাঁকে মাতৃস্নেহে ভালোবাসতেন।
তিনি বলেন, “বড়ো মা বীণাপাণি দেবীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই। হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর যে পথ দেখিয়েছেন, সেই পথেই চলতে চলতে মতুয়া মহাসঙ্ঘ বাংলার সামাজিক সংস্কার ও নবজাগরণের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বড়ো মা সারাজীবন এই আদর্শকে লালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে মতুয়া মহাসঙ্ঘ সামাজিক সমতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক শক্ত ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য তাঁর সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মতুয়া উন্নয়ন বোর্ড গঠন এবং উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে হরিচাঁদ–গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

No comments:
Post a Comment