প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১২ মার্চ ২০২৬, ১১:১৫:০১ : ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ এখনও চলছে। এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে তা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সময় জানা নেই। দুই পক্ষ থেকেই লাগাতার হামলা চালানো হচ্ছে। ফলে এর প্রভাব পড়ছে সারা বিশ্বের মানুষের ওপর। যুদ্ধের কারণে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, ছোট-বড় ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে যুদ্ধের জেরে ভারত থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ডিম রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বাজারে ডিমের দামও দ্রুত কমে গেছে।
জাতীয় ডিম সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে কর্ণাটকজুড়ে ডিমের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। আগে যেখানে একটি ডিমের দাম ছিল প্রায় ৭ টাকা ৬ পয়সা, সেখানে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তা নেমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ টাকা ৬০ পয়সায়। এতে ব্যবসায়ীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
কমিটির বিক্রয় প্রচার বিভাগের আধিকারিকরা ভি শেশনায়ারণ একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত পনেরো দিনে একাধিক কারণে ডিমের দাম কমেছে। এর মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়া, মৌসুমি চাহিদার ওঠানামা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
ভি শেশনায়ারণ জানান, কর্ণাটকে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ ডিম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে হোসপেট সবচেয়ে বড় উৎপাদক এলাকা, এরপর রয়েছে মাইসুরু। কর্ণাটকের ডিম সাধারণত তামিলনাড়ুর নামাক্কাল এলাকার একটি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়, সেখান থেকেই রপ্তানি হয়।
তিনি জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার দিন মাইসুরু থেকে নামাক্কালের দিকে যাচ্ছিল ৪ লক্ষ ৭০ হাজার ডিম বোঝাই একটি পণ্যবাহী গাড়ি। কিন্তু রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সেটিকে মাঝপথ থেকেই ফিরিয়ে আনতে হয়। সাধারণত নামাক্কাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ডিম উপসাগরীয় দেশগুলোতে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
মুসলমানদের পবিত্র মাস রমজান চলছে। এই সময় অনেক এলাকায় ডিমের ব্যবহার কিছুটা কমে যায়। এর পাশাপাশি গরমের কারণে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। ফলে উৎপাদন বেশি হলেও চাহিদা কমে গেছে। এর ফলেই ডিমের দাম দ্রুত পড়ে গেছে।
দাম কমলেও উৎপাদন বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই অতিরিক্ত ডিম জমা পড়ছে। উৎপাদকরা বাধ্য হয়ে সেই অতিরিক্ত ডিম শীতল সংরক্ষণাগারে রেখে দিচ্ছেন, যেখানে প্রায় তিন মাস পর্যন্ত ডিম সংরক্ষণ করা যায়। তবে এতে অতিরিক্ত খরচও বাড়ছে।
তেলেঙ্গানাতেও ডিমের দাম দ্রুত কমে গেছে। দুই মাস আগে যেখানে খুচরো বাজারে একটি ডিমের দাম ছিল প্রায় ৮ টাকা, এখন তা প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী ও খামার মালিকরা বলছেন, রপ্তানির চাহিদা কমে যাওয়া এবং স্থানীয় বাজারেও চাহিদা কম থাকায় তাদের লাভ অনেক কমে গেছে।
তেলেঙ্গানা ডিম উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে প্রায় দুই হাজার মুরগি খামার রয়েছে এবং সেখানে প্রায় সাত কোটি ডিম পাড়া মুরগি রয়েছে। এসব খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ৫০ লক্ষ ডিম উৎপাদন হয়। বছরে মোট উৎপাদন প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ কোটি ডিম, যা উৎপাদনের দিক থেকে দেশজুড়ে তেলেঙ্গানাকে তৃতীয় স্থানে রেখেছে। হায়দরাবাদ শহরের আশেপাশে শত শত মুরগি খামার রয়েছে।
সাধারণত সারা বছর ডিমের দাম ৫ থেকে ৬ টাকার মধ্যে থাকে, কখনও কখনও ৭ টাকাও ছুঁয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে বাজারে দাম নেমে এসেছে প্রায় ৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে। ফলে প্রতি ডিমে প্রায় দেড় টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
তেলেঙ্গানার ডিম তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কেরল ও কর্ণাটক থেকে আসা ডিমের সঙ্গে মিলিয়ে সাধারণত পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকার প্রায় ৪০টি দেশে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের কারণে এই রপ্তানি প্রক্রিয়া অনেকটাই ধীর হয়ে পড়েছে। ফলে উৎপাদকদের এখন বেশি করে স্থানীয় ক্রেতাদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment