প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১১ মার্চ ২০২৬, ১৩:৪৮:০১ : মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের প্রভাব এবার এলপিজি গ্যাসের সংকটের মাধ্যমে শহরের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী হোটেলগুলোর ওপরও পড়তে শুরু করেছে। মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসের বাইরে ফোর্ট এলাকায় অবস্থিত প্রায় ১৭৮ বছরের পুরোনো ‘পঞ্চম পুরিওয়ালা’ হোটেলও এই সংকটের মুখে পড়েছে। ব্রিটিশ আমলে ১৮৪৮ সালে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক খাবারঘরে সাধারণত ৭৯ ধরনের খাবারের পদ পাওয়া যেত।
জানা যায়, বিশেষ করে এখানে পাঁচ ধরনের পুরি পরিবেশন করা হতো। কিন্তু এলপিজি গ্যাসের ঘাটতির কারণে এখন হোটেলে মাত্র দুটি পদই দেওয়া হচ্ছে—পুরি-ভাজি এবং আমরস-পুরি। হোটেল কর্তৃপক্ষের মতে, তাদের কাছে গ্যাসের মজুত খুবই সীমিত। তাই পরিচিতদের কাছ থেকে ধার করে সিলিন্ডার এনে কোনওভাবে হোটেল চালাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দেখতে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি সরেজমিনে পঞ্চম পুরিওয়ালায় গিয়ে দেখেন যে গ্যাসের অভাবে এখন মাত্র দুটি পদই পরিবেশন করা হচ্ছে। ফলে খাবারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রতিদিনের আয়ও অনেকটাই কমে গেছে।
ছয় প্রজন্ম ধরে চলছে এই খাবারঘর। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতে রেলপথ চালু হওয়ার আগের সময় থেকেই এই দোকান চলছে। এর নাম ‘পঞ্চম পুরিওয়ালা’। পঞ্চম দাস নামে এক ব্যক্তি এই দোকানটি শুরু করেছিলেন। মূলত ভোরবেলায় শ্রমজীবী মানুষদের খাবার দেওয়ার জন্যই এটি খোলা হয়েছিল। দোকানের সামনে ইংরেজ আমলে একটি কারাগার ছিল, তাই এখানে মানুষের ভিড়ও খুব বেশি থাকত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি এখন দুই তলা বিশিষ্ট খাবারঘরে পরিণত হয়েছে এবং বর্তমানে মালিকের ষষ্ঠ প্রজন্ম এটি পরিচালনা করছে।
এই দোকানের মূল পরিচিতি পুরি-ভাজি। একটি থালায় পাঁচটি পুরি ও একটি তরকারি দেওয়া হয়, যা এখানকার ঐতিহ্য। যিনি এই দোকান শুরু করেছিলেন তার নাম ছিল পঞ্চম, যার অর্থই হল পাঁচ। জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে সর্দার বল্লভভাই পটেল, বিখ্যাত অভিনেতা রাজেশ খান্না এবং সঙ্গীত পরিচালক খয়্যাম—অনেক বিশিষ্ট মানুষই এই সাধারণ খাবারঘরে এসে খেয়েছেন। পরে মেনুতেও পরিবর্তন এনে পাঁচ স্বাদের পুরি যোগ করা হয়। মুম্বাইয়ের খাবারের কথা যারা জানেন, তাদের কাছে এই খাবারঘরও সমানভাবে পরিচিত ও জনপ্রিয়।

No comments:
Post a Comment