প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:১০:০১ : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহে বড় সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারতের রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানে ইরান-এর ওপর হামলা চালায়। এই হামলার পর ১ মার্চ ইরান নিশ্চিত করে যে তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি হোসেনি খামেনেই নিহত হয়েছেন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সোনিয়া গান্ধী কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একটি প্রবন্ধে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও দেশের বর্তমান প্রধানকে লক্ষ্য করে হত্যা করা অত্যন্ত গুরুতর এবং বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। তাঁর মতে, এই ঘটনার পর ভারতের নীরবতা কূটনৈতিক অবস্থানের ওপর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ভারত সরকার ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বা এই হত্যাকাণ্ডের সরাসরি নিন্দা করেনি। বরং প্রধানমন্ত্রী কেবলমাত্র ইরানের পাল্টা হামলার সমালোচনা করেছেন, কিন্তু তার আগের ঘটনাগুলি নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। এতে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।
সোনিয়া গান্ধীর মতে, কোনও যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই এ ধরনের “টার্গেটেড কিলিং” আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সনদের মূল নীতিতেই অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।
তিনি হামলার সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনার ঠিক আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েল সফর করে সেই দেশের সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। ফলে এই ঘটনার সময়কাল আরও বেশি উদ্বেগজনক বলে মনে হচ্ছে।
শেষে তিনি বলেন, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক স্তরেও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ইরানে হামলা ও এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাঁর মতে, ভারতের ঐতিহ্যগত কূটনৈতিক নীতি—যা সংলাপ, শান্তি ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানকে গুরুত্ব দেয়—তা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত এই নীরবতা দিতে পারে

No comments:
Post a Comment