ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০১ মার্চ ২০২৬: ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে বিস্ফোরক দাবী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন যে, এই যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের ৪৮ জন শীর্ষ নেতাকে মারা হয়েছে। এই যৌথ সামরিক অভিযান প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। উল্লেখ্য, এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনেই সহ অনেক বরিষ্ঠ নেতার মৃত্যু হয়েছে।
ট্রাম্প দাবী করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে "এক ধাক্কায় ৪৮ জন ইরানি নেতার মৃত্যু হয়েছে।" তিনি এও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আমেরিকা জানে এখনও কতগুলি নিশানা বাকি রয়েছে। পেন্টাগন এবং ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী যখন হামলার ফলাফল মূল্যায়ন করছে, তখন ট্রাম্পের এই বিবৃতি এসেছে।
এক টিভি সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সামরিক শক্তিকে নিশানা করে অভিযান "নির্ধারিত সময়ের আগেই" এগিয়ে চলছে। তাঁর মতে, তেহরানের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় শুরু হওয়া এই পদক্ষেপ মার্কিন কৌশলগত পরিকল্পনা অনুসারে এগিয়ে চলেছে। "আমরা যে সাফল্য পাচ্ছি তা কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। ৪৮ জন নেতা এক ধাক্কায় চলে গেছেন এবং এটি দ্রুত এগিয়ে চলেছে," ফক্স নিউজের সাথে কথা বলার সময় মার্কিন রাষ্ট্রপতি বলেন।
সিএনবিসির সাথে পৃথক এক আলাপচারিতায় ট্রাম্প বলেন যে, ইরানে আমেরিকার সামরিক আক্রমণ "নির্ধারিত সময়ের আগেই" এবং "খুব ভালোভাবে এগিয়ে চলেছে"। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এও দাবী করেছেন যে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর, নতুন ইরানি নেতা আমেরিকার সাথে আলোচনা করতে চান। "নতুন ইরানি নেতারা কথা বলতে চান এবং আমি কথা বলতে রাজি হয়েছি," সংবাদ সংস্থা রয়টার্স দ্য, আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে।
তাঁর সংযোজন, "তাঁদের (ইরানি শাসকগোষ্ঠীর) এটা আরও আগেই করা উচিত ছিল। তারা একটা চুক্তি করতে পারত, কিন্তু খুব সুন্দরভাবে খেলেছে। ওখানকার মানুষ খুশিতে রাস্তায় চিৎকার করছে, কিন্তু একই সাথে, প্রচুর বোমা পড়ছে।"
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন বিমান বাহিনী এই হামলায় ৪বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করেছে। এই যুদ্ধবিমানগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে এসে ইরানের ভূগর্ভস্থ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে। বি-২ বোমারু বিমানগুলি ইরানে প্রায় ২০০০ পাউন্ড ওজনের কয়েক ডজন বোমা ফেলেছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবী করেছেন যে, ইরান শীঘ্রই তার নতুন সর্বোচ্চ নেতা পাবে। আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হবে।

No comments:
Post a Comment