প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১৫:৩৭:০১ : ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়তে শুরু করেছে। তবে ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সংঘাতের কারণে দেশে তেল সরবরাহ বা অন্য কোনো জ্বালানির ঘাটতি হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ওঠানামা হলেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে মজবুত অবস্থায় রয়েছে। সরকারের দাবি, গত ১২ বছরে নেওয়া বিভিন্ন নীতির ফলে দেশের কাছে পর্যাপ্ত তেলের মজুত এবং একাধিক সরবরাহের পথ তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের কাছে বিপুল পরিমাণ জ্বালানির মজুত রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২৫০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি কাঁচা তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের স্টক আছে, যা প্রায় ৪০০০ কোটি লিটারের সমান। এই মজুত দিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত দেশের জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব। ফলে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলেই দাবি সরকারের।
কোথায় রাখা আছে ভারতের তেলের ভান্ডার?
ভারত তার তেলের মজুত বিভিন্ন জায়গায় সংরক্ষণ করে রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ কৌশলগত ভান্ডার, বড় স্টোরেজ ট্যাঙ্ক, পাইপলাইন ও টার্মিনাল এবং সমুদ্রে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাঙ্কার।
দেশের প্রধান কৌশলগত তেলভান্ডার রয়েছে ম্যাঙ্গালুরু, পদুর এবং বিশাখাপত্তনমে। এছাড়া তেল সরবরাহের উৎসও আগের তুলনায় অনেক বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে ভারত ২৭টি দেশ থেকে তেল আমদানি করত, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০টিতে। ফলে শুধু হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমেছে।
ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে, আর বাকি ৬০ শতাংশ আসে অন্যান্য পথ দিয়ে। তাই কোনো একটি পথে সমস্যা হলেও দেশে তেলের বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে আসছে। দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই এই বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরেও ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেনি। ২০২৬ সালেও রাশিয়া ভারতের অন্যতম বড় তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে রয়েছে।
গত চার বছরে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে তেল সংস্থাগুলিকে প্রায় ২৪,৫০০ কোটি টাকার ক্ষতিও সহ্য করতে হয়েছে। সরকারের দাবী, গত ১২ বছরে দেশের কোনো পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশ ভারত
ভারতের মোট রিফাইনিং ক্ষমতা প্রায় ২৫৮ এমএমটিপিএ (MMTPA), যা বিশ্বে চতুর্থ স্থানে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় ২১০–২৩৩ এমএমটিপিএ। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল পরিশোধন করার সক্ষমতা রয়েছে ভারতের। এই কারণেই ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানিকারক দেশ।
দিনে মাত্র ৭ টাকায় রান্না
সরকারের মতে, পেট্রোলিয়াম খাতে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তিনটি বিষয় মাথায় রেখে—জ্বালানির দাম সাশ্রয়ী হওয়া, সহজলভ্যতা এবং পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা। আন্তর্জাতিক বাজারে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সৌদি সিপি (Saudi CP) বেঞ্চমার্ক দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে। তবুও দেশে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়নি।
সরকারের দাবী, উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধাভোগী একটি পরিবারের রান্নার খরচ এখন গড়ে দিনে প্রায় ৭.৩১ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
দেশের স্বার্থেই তেল কেনে ভারত
ভারত সরকার জানিয়েছে, তেল কেনার নীতি সম্পূর্ণভাবে দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই নির্ধারণ করা হয়। যেখানে থেকে তেল সহজে পাওয়া যায়, সস্তা এবং নিরাপদভাবে দেশে আনা যায়—ভারত সেখান থেকেই তেল আমদানি করে। বিশ্বের বড় বড় তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী দেশের সঙ্গে ভারতের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সব লেনদেন আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে, বৈধ ব্যবসায়িক চ্যানেলের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
সরকারের মতে, ভারত কোনো নিয়ম ভাঙেনি। বরং বিশ্ব তেলবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

No comments:
Post a Comment