স্পোর্টস ডেস্ক, ০৫ মার্চ, ২০২৬: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অসাধারণ জয়, টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত। মায়ানগরীতে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে দুর্দান্ত জয় টিম ইন্ডিয়ার। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ, ২০২৬) টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল খেলা হয় মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। এদিন ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় টিম ইন্ডিয়া। টস হেরে টিম ইন্ডিয়া প্রথমে ব্যাট করে এবং ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান করে। এদিন টিম ইন্ডিয়ার জয়ে সঞ্জু স্যামসনের দুর্দান্ত ৮৯ রানের ইনিংস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড দল ২০ ওভারে মাত্র ২৪৬ রানে গুটিয়ে যায়। ৭ রানে ম্যাচ হেরে যায় ইংল্যান্ড। এবারে ৮ মার্চ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সূর্য-বাহিনী।
এদিনের ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা খুবই খারাপ ছিল কিন্তু এরপর তাদের রানের গতি ছিল ভালোই। একসময় এই ম্যাচ হয়ে ওঠে একপ্রকার শ্বাসরুদ্ধকর। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হেসেছে টিম ইন্ডিয়া। এদিনের ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড প্রথম ধাক্কা ফিল সল্ট আউট হলে। সল্ট দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে মাত্র ৫ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে আউট হন। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বড় ইনিংস খেলবেন বলে আশা করা হচ্ছিল, কিন্তু মাত্র ৭ রানে তাঁকে আউট করেন জসপ্রীত বুমরাহ। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলেই ইংল্যান্ড দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারায়, এই সময় তাদের রান ছিল ৩৮। জ্যাকব বেথেল এই সময় জস বাটলারের সঙ্গে দাঁড়ান দৃঢ়তার সঙ্গে, কিন্তু বাটলার ষষ্ঠ ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর বলে বোল্ড হন। ১৭ বলে ২৫ রান করেন তিনি। প্রথম ছয় ওভার শেষে ইংল্যান্ডের ঝুলিতে ছিল ৩ উইকেটে ৬৮ রান।
পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার সাথে সাথে, জ্যাকব বেথেল আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। চার-ছক্কার বৃষ্টি হয় তাঁর ব্যাটে। এই সময়ের মধ্যে, ইংল্যান্ড ৯৫ রানে তাদের চতুর্থ উইকেট হারায়। টস ব্যান্টন ৫ বলে ১৭ রান করে বিদায় নেন। এরপর ব্যাট করতে আসেন উইল জ্যাকস। তিনি জ্যাকব বেথেলকে অসাধারণ সঙ্গ দেন এবং মাত্র ৩৯ বলে পঞ্চম উইকেটে ৭৭ রানের জুটি গড়েন। এই সময় ম্যাচ হয়ে ওঠে রোমাঞ্চকর। কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ইংল্যান্ড দলের হাসি, আউট হয়ে যান উইল জ্যাকস। অক্ষর প্যাটেলের দুর্দান্ত ক্যাচ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইংল্যান্ড ১৪তম ওভারের শেষ বলে ১৭২ রানে তাদের পঞ্চম উইকেট হারায়। ২০ বলে ৩৫ রান করা জ্যাকসকে আউট করেন আরশদীপ সিং।
উইল জ্যাকসকে আউট করার পর জ্যাকব বেথেল এবং স্যাম কারান রানের গতি বজায় রাখেন। তবে, ইনিংস চলাকালীন দুটি ওভার বল করা জসপ্রীত বুমরাহর পারফর্ম্যান্স ছিল দেখার মতো, ইংল্যান্ডের এই দুই ব্যাটসম্যানকে বড় শট খেলতে বাধা দেন। স্যাম কারান ১৮ রান করে আউট হন। ৪৮ বলে ১০৫ রান করা জ্যাকব বেথেল শেষ ওভারের প্রথম বলে দুই রানের শট নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে রান আউট হন। এই সময় ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য ছয় বলে ৩০ রান প্রয়োজন ছিল। এরপর ইংল্যান্ড ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৪৬ রান করতে সক্ষম হয়। এরই সঙ্গে শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচ সাত রানে জিতে নেয় ভারত।
ভারতের হয়ে জসপ্রীত বুমরাহ চার ওভারে ৩৩ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। হার্দিক পান্ডিয়া ম্যাচে দুটি উইকেট নেন। অন্যদিকে বরুণ চক্রবর্তী, অর্শদীপ সিং এবং অক্ষর প্যাটেল প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং পারফর্ম্যান্স ছিল নজরকাড়া। সঞ্জুর দাপটেই ভারত ২০ ওভারে মোট ২৫৩ রানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এদিন সঞ্জু স্যামসন ৮৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। শিবম দুবেও ৪৩ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া ঈশান কিষাণ ৩৯ এবং হার্দিক পান্ডিয়া ২৭ রান করেন।

No comments:
Post a Comment