প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৪:৫৫:০১ : ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের অনুরোধ উপেক্ষা করে এবার সৌদি আরবেও হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার ইরানি ড্রোন হামলায় রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর পূর্বাঞ্চলের শহর ধাহরানে, যেখানে সৌদি আরামকোর প্রধান কার্যালয় রয়েছে, সেখানে সম্ভাব্য মিসাইল ও ড্রোন হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার সোমবার জানান, তিনি তার ইরানি সমকক্ষ আব্বাস আরাঘচিকে সৌদি আরবে হামলা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি ইসলামাবাদ ও রিয়াদের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা উল্লেখ করে ইরানকে সতর্ক করেন যে, এই চুক্তি অনুযায়ী এক দেশের ওপর হামলা মানে দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, তেহরান পাল্টা আশ্বাস চেয়েছিল যে সৌদি ভূমি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। তবে এই আলোচনা সত্ত্বেও মঙ্গলবার ইরান রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা চালায়। এর আগে সোমবার রাস তানুরার গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারেও ড্রোন হামলা হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালাচ্ছে, যার জবাব হিসেবেই এই হামলা।
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ফোনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর সঙ্গে কথা বলেন। শেহবাজ শরিফ জানান, পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। যদিও সরকারি বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পাকিস্তান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে এবং সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ভূমিকা নিয়ে সরাসরি কিছু বলেনি।
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে এই প্রথম প্রকাশ্যে আলোচনা সামনে এসেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর হামলাকে দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে আফগানিস্তান সংক্রান্ত সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরেও এখনও পর্যন্ত এই চুক্তি কার্যকর করা হয়নি। সেপ্টেম্বর মাসে হওয়া এই চুক্তি নিয়ে ইশাক দারের এই মন্তব্যই প্রথমবার প্রকাশ্যে এসেছে।

No comments:
Post a Comment