প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১০ মার্চ ২০২৬, ১৯:১৫:০১ : মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের বোমাবর্ষণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান কিছুটা নরম হয়েছে। যুদ্ধের দশম দিনে তিনি সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, সমঝোতা নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব, তবে সবকিছু নির্ভর করবে ইরান কোন শর্তে আলোচনায় বসতে রাজি হয় তার ওপর।
এই মন্তব্য এমন সময় সামনে এসেছে, যখন পি-৩ দেশগুলোর মধ্যে থাকা রাশিয়া , চীন এবং ফ্রান্স যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতারা আলোচনার জন্য আগ্রহী এবং বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। তাঁর কথায়, “আমি আলোচনায় বসতে আপত্তি করছি না, তবে সবকিছু নির্ভর করবে শর্তের ওপর। আমরা শুরু থেকেই সমঝোতা চাইছিলাম, কিন্তু ইরান বারবার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছিল।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের কয়েকজন উপদেষ্টা তাঁকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজতে পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যুক্তরাষ্ট্রেরই বড় ক্ষতি হতে পারে।
Associated Press-এর একটি গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানে সরকার পরিবর্তন বা অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা খুব কম। ওই রিপোর্ট মার্কিন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তাতে বলা হয়েছে যে ইরানের সাধারণ মানুষ এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত নয়।
হামলার পক্ষে যুক্তি ট্রাম্পের
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলাকে সঠিক পদক্ষেপ বলেও দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, যখন মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার আলোচনা করতে গিয়েছিলেন, তখন ইরান বিষয়টি এড়িয়ে যায়। পরে তাঁকে জানানো হয় যে ইরান ১১টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের যে দেশগুলো ইরানের ওপর আক্রমণ করেনি, তাদের দিকেও তেহরান থেকে হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth সাংবাদিকদের বলেন, ইরান এখন কার্যত একাই যুদ্ধ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাবে। তাঁর দাবি, ১১ মার্চ ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় আক্রমণের প্রস্তুতি রয়েছে এবং যুদ্ধে ইরান দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ইরানের পাল্টা আক্রমণ
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা চালাতে ইরান প্রায় ২০০০টি ড্রোন এবং ৫০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

No comments:
Post a Comment