প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৭:০১ : মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা জানাননি। এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করার খুব কাছাকাছি আমরা পৌঁছে গেছি। তিনি আরও বলেন, কোনও সন্ত্রাসবাদী শাসনব্যবস্থাকে তিনি বিশ্বকে জিম্মি করে রাখা কিংবা বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করতে দেবেন না। ইরান যদি এমন কিছু করার চেষ্টা করে, তবে তাদের এমন কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে যেখান থেকে তারা আর কখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পতন দেখা গেছে। যদিও সাংবাদিকরা যখন জানতে চান “শিগগিরই” বলতে কি এক সপ্তাহের মধ্যে, তখন ট্রাম্প বলেন, না, তবে খুব বেশি দেরিও নয়। তাঁর দাবি, ইরানের সামরিক শক্তি প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্য দখলের পরিকল্পনা ছিল ইরানের
ট্রাম্পের দাবি, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে এবং ইজরায়েলকে ধ্বংস করতে চাইছিল। সঠিক সময়ে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। এতে যুক্ত হতে পেরে আমেরিকা গর্বিত বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, আপাতত ইরানের কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে আমেরিকা বিরত রয়েছে। তবে ইরান যদি সহযোগিতা না করে, তাহলে সেই সব স্থাপনায় আঘাত হানার সম্ভাবনাও রয়েছে।
অনেক লক্ষ্য এখনও বাকি
ফ্লোরিডায় এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু আপাতত আক্রমণ করা হয়নি। প্রয়োজনে সেগুলিকে পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা হবে। তাঁর কথায়, যদি সেই সব জায়গায় হামলা করা হয়, তবে সেগুলো আবার তৈরি করতে ইরানের বহু বছর লেগে যাবে। এই লক্ষ্যগুলির মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে।
তেলের দাম কমার সম্ভাবনা
ট্রাম্পের মতে, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল এবং তেলের সরবরাহে ইরানের যে সম্ভাব্য হুমকি ছিল, তা অনেকটাই কমে যাবে। এর ফল হিসেবে তেলের দাম কমবে এবং আমেরিকার সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি সস্তা হবে। তিনি আরও জানান, এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচল করা তেলবাহী জাহাজগুলিকে রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করছে আমেরিকা। তেলের দাম কমাতে কিছু নিষেধাজ্ঞাতেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রণালী দিয়ে জাহাজ নিরাপদে বের করা হবে
ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী এবং তাদের সহযোগী বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী অঞ্চল থেকে তেলবাহী জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করে আনবে। তাঁর দাবি, পরিকল্পিত সময়সীমার থেকেও অনেকটা এগিয়ে রয়েছে অভিযান। তিনি আরও বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়াতেও তিনি ভূমিকা রাখতে চান। কারণ এমন কোনও নেতৃত্ব তিনি চান না, যারা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত নয়। তাঁর মতে, পাঁচ বা দশ বছর পরেও একই পরিস্থিতি যেন না তৈরি হয়।
ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ধ্বংস
ট্রাম্পের দাবী, ইজরায়েলের সহযোগিতায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক শক্তির প্রদর্শনের মাধ্যমে শত্রুপক্ষকে কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। নৌবাহিনীর শক্তিও ভেঙে পড়েছে। সমুদ্রে তাদের বহু যুদ্ধজাহাজ ডুবে গেছে এবং ৪৬টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।
তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ না শত্রুপক্ষ পুরোপুরি পরাজিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না। অনেক দিক থেকে ইতিমধ্যেই জয় এসেছে, তবে চূড়ান্ত জয় এখনও বাকি। দীর্ঘদিনের এই হুমকিকে চিরতরে শেষ করার লক্ষ্যেই অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

No comments:
Post a Comment