প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭:০৩:০১ : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর পাকিস্তানে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমেরিকার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, যার কিছু অংশ সহিংস রূপ নিয়েছে।
রবিবার (১ মার্চ) সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ১০০-র বেশি শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ সেখানে প্রবেশ করে প্রথমে ইরান ও হিজবুল্লাহ-এর পতাকা উত্তোলন করে। এরপর প্রায় আধঘণ্টা ধরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালায়, যাতে অন্তত ১৪ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ২৫ জনেরও বেশি আহতকে জিন্নাহ হাসপাতাল-এর ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে, কারণ বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেট থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূর থেকে মিছিল করে এলেও পথে বাধা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেখা যায়নি।
কনস্যুলেটের ঘটনায় ক্ষোভ থামেনি। পরে বিক্ষোভকারীরা কাছাকাছি ট্র্যাফিক পুলিশের একটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এদিকে, পাকিস্তান অধিকৃত গিলগিত-বালতিস্তান-এর স্কার্দু শহরেও ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যায়। সেখানে জাতিসংঘের UNMOGIP অফিসে আগুন লাগানো হয়। পাশাপাশি একটি আর্মি পাবলিক স্কুল ও এসপি অফিসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।
একই অঞ্চলের জোটিয়াল এলাকায় সেনাবাহিনী গুলি চালালে আরও ৫ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়। স্কার্দুতে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ।
লাহোর-এও মার্কিনবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে, যদিও সেখানে পুলিশ আগে থেকেই সতর্ক থাকায় কনস্যুলেটে প্রবেশ করতে পারেনি বিক্ষোভকারীরা।
আগামীকাল (২ মার্চ) ইসলামাবাদ, করাচি, মুলতান ও পেশোয়ারে আবারও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

No comments:
Post a Comment