কলকাতা, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২২:২৩:০১ : পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি মুর্মুর ‘অসম্মান’ ইস্যু ঘিরে রাজনীতি তীব্র হওয়ার মধ্যে এবার পাল্টা আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা। কলকাতায় তৃণমূলের ধরনা মঞ্চ থেকে একটি ছবি দেখিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদী -কে নিশানা করেন।
মমতা বলেন, “মোদিজি, এই ছবিটা আপনার জন্য। আমি একটা ছবি দেখাতে চাই। রাষ্ট্রপতি একজন নারী ও আদিবাসী নেত্রী—আপনি কি সত্যিই তাঁকে সম্মান করেন? যখন রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, তখন আপনি কেন বসে ছিলেন? এই ছবিই প্রমাণ করে কে সম্মান করে আর কে করে না। আমরা সব সম্মানজনক পদকেই সম্মান করি।”
তিনি আরও বলেন, প্রতি নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বাংলাকে আক্রমণ করেন এবং রাজ্যের মানুষকে অপমান করেন। মমতার দাবি, নির্বাচনের সময়ই শুধু বাউরি, বাগড়ি, লোধা, সবর, মুন্ডা, সাঁওতাল, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাষ্ট্রপতির ওই অনুষ্ঠানটি রাজ্য সরকারের আয়োজিত ছিল না। তাঁর বক্তব্য, একটি বেসরকারি সংস্থা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল। রাজ্য সরকার আগেই চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল যে ওই সংগঠনের পক্ষে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে।
তিনি বলেন, “তারপরও রাষ্ট্রপতি নিজের সিদ্ধান্তে নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। সেটা তাঁর অধিকার। কিন্তু এই অনুষ্ঠান রাজ্য সরকারের ছিল না।”
মমতার দাবি, অনুষ্ঠানে মানুষ কম উপস্থিত থাকার বিষয়টি আয়োজক সংগঠনের দেখা উচিত। তিনি বলেন, “ওরা কখনও আমাদের কাউকে পাঠাতে বলেনি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনওভাবেই এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।”
ওয়াশরুম বা অন্যান্য অব্যবস্থার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখেছেন এবং ওই এলাকা Airports Authority of India-এর অধীনে পড়ে। গ্রিনরুমও আয়োজকরাই তৈরি করেছিল।
মমতা বলেন, “কয়েকদিন আগে ওই জায়গায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও সভা করেছিলেন। এলাকা আমাদের নয়, এয়ারপোর্ট অথরিটির অধীনে। যদি কোনও ত্রুটি হয়ে থাকে, তার দায় তাদের। তাই আমাদের দোষারোপ করবেন না।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেই সময় তিনি ধরনা কর্মসূচিতে ছিলেন। “আমি তখন মানুষের অধিকার ও ভোটের অধিকারের জন্য আন্দোলনে বসেছিলাম। সেটা ছেড়ে কীভাবে যাই?”—বলেন তিনি।
মমতার কথায়, “আমরা চেয়ার বা পদকে সর্বোচ্চ সম্মান দিই। সংবিধানকে আমরা মায়ের মতো শ্রদ্ধা করি। কিন্তু নির্বাচন সামনে বলে বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক নারী দিবস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলেও দাবি করেন মমতা। তাঁর জবাব, “আমরা হাজার বার আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করব। আমরা নারী-পুরুষ সবারই সম্মান করি। সমাজ চলতে পারে না একে অপরকে ছাড়া।”
সবশেষে মমতা বলেন, "রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন।" তাঁর দাবি, “যে সংগঠন অনুষ্ঠানটি করেছে, তাদের সেই সামর্থ্য ছিল না। তাই তার দায় আমাদের ওপর চাপানো ঠিক নয়।”

No comments:
Post a Comment