প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৫:০১ : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে ভারত তার জ্বালানি ও কৃষি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্ত প্রস্তুতি নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, এই সংঘাতের কোনো নেতিবাচক প্রভাব যেন সাধারণ মানুষের রান্নাঘর বা কৃষকদের চাষাবাদে না পড়ে। পেট্রোলিয়াম ও সার মন্ত্রকের মতে, দেশে রান্নার গ্যাস, পেট্রোল-ডিজেল এবং কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় সার—সবকিছুর সরবরাহ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।
গত কয়েক দিনে বাজারে গ্যাসের অভাব নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। এর ফলে হঠাৎ করে প্রতিদিন বুকিংয়ের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮৯ লক্ষে পৌঁছে যায়। তবে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ এবং রিফাইনারিগুলির উৎপাদন বাড়ানোর ফলে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং বুকিং কমে স্বাভাবিকভাবে প্রায় ৫৫ লক্ষে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের রিফাইনারিগুলি উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়িয়েছে, ফলে ঘরোয়া বাজারে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।
একই সঙ্গে শহরাঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ দ্রুত বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার, যাতে সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা কমে। মার্চ মাসেই সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের ক্ষেত্রেও সরকার আশ্বস্ত করেছে যে আসন্ন খরিফ মৌসুমে সারের কোনো ঘাটতি হবে না। কারণ, এ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি সার মজুত রাখা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে ইউরিয়ার মজুত প্রায় ৬২ লক্ষ টনে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ লক্ষ টন বেশি। ডিএপি সারের মজুত বেড়ে প্রায় ২৫ লক্ষ টনে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়া এনপিকে সারের মজুতও ৫৬ লক্ষ টনের সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সরবরাহ বজায় রাখতে ভারত রাশিয়া, মরক্কো এবং সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত চুক্তি করেছে, যার ফলে বিকল্প সমুদ্রপথে নিরাপদে সার দেশে পৌঁছাচ্ছে।
বাজারে কালোবাজারি এবং কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে দেশের ৬৫২টি জেলায় সারের বিক্রির ওপর কঠোর ডিজিটাল নজরদারি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো সন্দেহজনক লেনদেন বা মজুতদারি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, খুচরা স্তরে তেল বা গ্যাসের কোনো অভাব দেখা দেয়নি এবং হাসপাতাল ও হোটেলের মতো জরুরি পরিষেবাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment