প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১১ মার্চ ২০২৬, ১৬:৪৫:০১ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুধবার কেরালার কোচি শহরে আখিল কেরালা ধীবরা সভার সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যা ঘটছে তা নিয়ে সবার উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক, কারণ সেখানে আমাদের লক্ষ লক্ষ ভারতীয় ভাই-বোন কাজ করেন।
তিনি বলেন, দেশে আজ ভারতীয় জনতা পার্টি-এনডিএ সরকারের নেতৃত্বে ভারত প্রতিটি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছে। বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সরকারও সেখানে কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তার দিকে নজর রাখছে, এজন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ভাষণের মধ্যেই তিনি কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত বড় বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও কংগ্রেস রাজনীতি করছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানিমূলক মন্তব্য করছে যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি বলেন, আজকের ভারত সংকটের সময় নিজের নাগরিকদের কখনও একা ছেড়ে দেয় না। যুদ্ধের মধ্যে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, কিছু মানুষ একজোট হয়ে তাকে গালিগালাজ করছে এবং শিগগিরই হয়তো গালি দেওয়ার দৃশ্য ধারণ করেই প্রচার চালাবে। একই সঙ্গে তিনি কেরালার আঞ্চলিক জোটগুলির দিকেও আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, নাম আলাদা হলেও বাম গণতান্ত্রিক জোট ও যুক্ত গণতান্ত্রিক জোটের কাজ এক—দুর্নীতি, অপরাধ এবং উন্নয়ন আটকে দেওয়ায় তারা একসঙ্গে অংশীদার।
প্রধানমন্ত্রী এদিন মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের ভূমিকা ও অবদানকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এই সম্প্রদায়ের শক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন যে আখিল কেরালা ধীবরা সভা আজ তাদের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উদযাপন করছে এবং গত পাঁচ দশক ধরে সংগঠনটি মৎস্যজীবী সমাজের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছে। এ উপলক্ষে তিনি কেরালার সব মৎস্যজীবী এবং সংগঠনের সদস্যদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আজ তাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি সারা রাজ্যে আনন্দের পরিবেশ দেখতে পাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৯ সালের ভয়াবহ বন্যার কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেই সময় মৎস্যজীবী সমাজ অসাধারণ সাহস ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছিল। বিপদের মধ্যে আটকে পড়া বহু পরিবারকে উদ্ধার করতে তারা নিজেদের নৌকা ঝুঁকির মধ্যে ফেলেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল, যা দেশ কখনও ভুলবে না।
তিনি জানান, মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে কেরালাকে প্রায় ১৪০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজ্যে মাছ চাষ ও মৎস্য শিল্পের দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, মৎস্যজীবী সমাজের পরিশ্রম ও সক্ষমতা দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিতে পারে। অতীতে এই সম্প্রদায়কে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা হয়েছে, কিন্তু বর্তমান সরকার তাদের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বহুদিনের দাবি মেনে কেরালার নাম পরিবর্তন করে “কেরলম” করার প্রস্তাব কেন্দ্রের সরকার অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, মালয়ালি জনগণের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষ হয়েছে এবং আজ রাজ্যজুড়ে আনন্দের পরিবেশ দেখা যাচ্ছে।
এদিন এর্নাকুলামে প্রায় ১০ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে কোচি শোধনাগারে নতুন একটি ইউনিট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে, যা প্লাস্টিক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির কাঁচামাল উৎপাদন করবে এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমাবে। এছাড়া মুম্বাই-কন্যাকুমারী করিডরের অধীনে নতুন সড়ক এবং কোঝিকোড় বাইপাসের উদ্বোধন করা হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘ সময়ের যাত্রা অনেক কমে যাবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ সড়ক, আধুনিক রেলস্টেশন এবং কল্লম জেলায় পানির উপর ভাসমান একটি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রেরও সূচনা করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment