প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:০০:০২ : রাগ এমন একটি অনুভূতি যা জীবনের কোনও না কোনও সময়ে সবারই হয়। কিন্তু যখন এই রাগ বারবার বা অতিরিক্ত বাড়তে থাকে, তখন তা সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত এবং মানসিক শান্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অনেক সময় রাগের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত পরে অনুতাপের কারণ হয়।
ভারতের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ ভগবদ গীতা জীবনের নানা সমস্যার সমাধান শেখায়। এতে মনকে শান্ত রাখা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা এবং রাগকে সামলানোর অনেক শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। গীতার কিছু শ্লোক আমাদের শেখায় কীভাবে রাগ থেকে দূরে থেকে শান্ত ও স্থির মন নিয়ে জীবনযাপন করা যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমনই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তার সহজ অর্থ।
১. সুখ-দুঃখে স্থির মন রাখা
দুঃখেষ্বনুদ্বিগ্নমনাঃ সুখেষু বিগতস্পৃহঃ।
বীতরাগভয়ক্রোধঃ স্থিতধীর মুনিরুচ্যতে।।
(অধ্যায় ২, শ্লোক ৫৬)
এই শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ বলেন, যে মানুষ দুঃখে ভেঙে পড়ে না এবং সুখেও অতিরিক্ত আসক্ত হয় না, তাকেই স্থিরবুদ্ধির মানুষ বলা হয়। এমন ব্যক্তি আসক্তি, ভয় ও রাগ থেকে দূরে থাকে।
শিক্ষা: জীবনের পরিস্থিতিকে শান্ত ও সমতা বজায় রেখে গ্রহণ করতে পারলে রাগ অনেকটাই কমে যায়।
২. ইচ্ছা ও রাগ নিয়ন্ত্রণ করা
কামক্রোধবিয়ুক্তানাং যতীনাং যতচেতসাম্।
অভিতো ব্রহ্মনির্বাণং বর্ততে বিদিতাত্মনাম্।।
(অধ্যায় ৫, শ্লোক ২৬)
এই শ্লোকে বলা হয়েছে, যারা কামনা ও ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং নিজের মনকে সংযত রাখে, তারাই প্রকৃত শান্তি ও আনন্দ লাভ করে।
শিক্ষা: নিজের ইচ্ছা ও আবেগকে বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মনে স্থিরতা আসে।
৩. ক্রোধ থেকে দূরে থাকা একটি মহৎ গুণ
অহিংসা সত্যমক্রোধস্ত্যাগঃ শান্তিরপৈশুনম্।
দয়া ভূতেষ্বলোলুপ্ত্বং মার্দবং হ্রীরচাপলম্।।
(অধ্যায় ১৬, শ্লোক ২)
শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, অহিংসা, সত্যবাদিতা, দয়া এবং ক্রোধ থেকে দূরে থাকা—এগুলো মানুষের দেবত্বপূর্ণ গুণের মধ্যে পড়ে।
শিক্ষা: অন্যের প্রতি দয়া, সহানুভূতি ও সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখলে রাগের কারণও অনেক কমে যায়।
৪. ক্রোধ ধ্বংসের পথ খুলে দেয়
ত্রিবিধং নরকস্যেদং দ্বারং নাশনমাত্মনঃ।
কামঃ ক্রোধস্তথা লোভস্তস্মাদেতত্ত্রয়ং ত্যজেত্।।
(অধ্যায় ১৬, শ্লোক ২১)
এই শ্লোকে বলা হয়েছে, কাম, ক্রোধ ও লোভ—এই তিনটি মানুষের আত্মধ্বংসের দরজা খুলে দেয়।
শিক্ষা: জীবনে শান্তি ও উন্নতি চাইলে এই তিনটি প্রবৃত্তি থেকে দূরে থাকা জরুরি।
৫. ক্রোধ কীভাবে নষ্ট করে মানুষের বুদ্ধি
ক্রোধাদ্ভবতি সম্মোহঃ সম্মোহাৎ স্মৃতিবিভ্রমঃ।
স্মৃতিভ্রংশাদ্ বুদ্ধিনাশো বুদ্ধিনাশাৎ প্রণশ্যতি।।
(অধ্যায় ২, শ্লোক ৬৩)
এই শ্লোকে বলা হয়েছে, ক্রোধ থেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, বিভ্রান্তি থেকে স্মৃতিভ্রংশ হয় এবং শেষে মানুষের বিচারবুদ্ধি নষ্ট হয়ে যায়।
শিক্ষা: রাগ আমাদের সঠিক-ভুল বোঝার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং ভুল সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়।
ভগবদ গীতা আমাদের শেখায়, রাগ কখনো সমস্যার সমাধান নয়। বরং এটি নতুন সমস্যার জন্ম দেয়। ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ইতিবাচক চিন্তা গ্রহণ করলে রাগকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গীতার এই শিক্ষাগুলো জীবনে মেনে চললে আমরা আরও শান্ত, সুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন কাটাতে পারি।

No comments:
Post a Comment