গ্রীষ্ম হোক বা শীত, সব ঋতুতেই আমলকী খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। বলা হয়ে থাকে যে আমলকী শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আপনি কি জানেন যে গ্রীষ্মকালে আমলকী খেলে শক্তি বজায় থাকে এবং ক্লান্তি দূর হয়? তবে, এটি খাওয়ার আগে এর পদ্ধতি জেনে নেওয়া জরুরি।
আয়ুর্বেদে আমলকিকে 'অমৃতফল' হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা শরীরের তিনটি দোষের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। আমলকী বাত, পিত্ত এবং কফ—এই তিনটি দোষের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে। এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে হওয়া সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। শরীরের উত্তাপ এড়াতে এবং শরীরকে শীতল রাখতে আমলকীর শরবত খাওয়া বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে করা হয়।
এর জন্য, একটি মাটির পাত্রে জল, সৈন্ধব লবণ, মিছরির মতো মিছরি, সাবজা বীজ, আমলকীর গুঁড়ো বা তাজা আমলকীর রস নিন। জলে একটি আমলকীর রস, সাবজা বীজ এবং এক চিমটি সৈন্ধব লবণ মেশান। ভালোভাবে মেশানোর পর, গুঁড়ো করা মিছরি (শ্রী) যোগ করুন। সবশেষে, বরফ দিয়ে পরিবেশন করুন। এই পানীয়টি ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্লান্তি দূর করে।
এই শরবত পান করলে গ্রীষ্মকালে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ হ্রাস পায়। আমলার শরবত গ্রীষ্মকালে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতেও সাহায্য করে। গ্রীষ্মকালে পিত্ত ও বাত দোষের ভারসাম্যহীনতা সাধারণ ব্যাপার, যার ফলে শরীরে জড়তা দেখা দেয়। এই সমস্ত সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে আমলার শরবত সহায়ক।
বাত ও পিত্ত দোষ কমালে তা পেটের জ্বালাও শান্ত করে এবং মুখের ব্রণ কমায়। গ্রীষ্মকালে শরীর বাহ্যিকভাবে এবং অভ্যন্তরীণভাবে শুষ্ক অনুভূত হতে পারে। আমলার রস পান করলে শরীরে জলের পরিমাণ বজায় থাকে এবং ত্বক-সম্পর্কিত সমস্যা কমে।

No comments:
Post a Comment