ফের বড়সড় বিপদের মুখ থেকে রক্ষা পেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার রাতে ওয়াশিংটনের একটি নামী হোটেলে আয়োজিত বার্ষিক সংবাদমাধ্যমের নৈশভোজ চলাকালীন আচমকা গুলির ঘটনা ঘটে। দ্রুততার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
নৈশভোজের মাঝেই আতঙ্ক
ঘটনাস্থলের বলরুমে সেই সময় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনিক আধিকারিক মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল। অনুষ্ঠানে ছিলেন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধান পিট হেগসেথ এবং বিদেশ দপ্তরের প্রধান মার্কো রুবিও। হঠাৎ চার থেকে পাঁচ দফা গুলির শব্দ শোনা যায় বলে জানা গেছে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। দ্রুত বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মঞ্চ দখল করে এবং রাষ্ট্রনেতা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষিত জায়গায় সরিয়ে নেয়। পরে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
‘ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা’— ট্রাম্প
ঘটনার পর নিজের সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হলেও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় বিপদ এড়ানো গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অনুষ্ঠানে ফেরার ইচ্ছা ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন, যদিও নিরাপত্তার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
পুরনো আতঙ্কের পুনরাবৃত্তি
এই ঘটনার জেরে কয়েক দশক আগের এক ভয়াবহ স্মৃতি ফের সামনে চলে এসেছে। রোনাল্ড রেগান হত্যাচেষ্টা ১৯৮১-এর সময় একই শহরের একটি হোটেলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান-কে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। বহু বছর পর আবার একই ধরনের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী— তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

No comments:
Post a Comment