ভোটের আগে দেগঙ্গায় বোমা আতঙ্ক, বাড়ির দরজায় মিলল তাজা বিস্ফোরক - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, April 24, 2026

ভোটের আগে দেগঙ্গায় বোমা আতঙ্ক, বাড়ির দরজায় মিলল তাজা বিস্ফোরক

 




দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটের আগে উত্তর চব্বিশ পরগনার দেগঙ্গাতে ফের উত্তেজনা ছড়াল বোমা উদ্ধারের ঘটনায়। শুক্রবার ভোরে দেগঙ্গা দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবর্ধনপুর এলাকায় এক ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট নেতার বাড়ির দরজার সামনে থেকে দু’টি তাজা সুতলি বোমা উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

ওই নেতা মহাম্মদ হাবিবুল রহমান, যিনি দলের অঞ্চল সম্পাদক পদে রয়েছেন। তাঁর কথায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে বাড়ি থেকে বেরোতে গিয়ে দরজা খুলতেই চোখে পড়ে দরজার ঠিক সামনে রাখা রয়েছে দু’টি তাজা বোমা। আচমকা এই দৃশ্য দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তাঁর পরিবারে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়। পুলিশ এসে বোমা দু’টি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এই ঘটনার জন্য সরাসরি শাসকদল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-এর দুষ্কৃতীদের দায়ী করেছেন হাবিবুল রহমান। তাঁর অভিযোগ, কয়েকদিন আগে পদ্মপুকুর বাজারে দলের প্রার্থী পিয়ারুল ইসলামের সমর্থনে এক নির্বাচনী সভায় তিনি শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে ভয় দেখাতে বা প্রাণনাশের হুমকি দিতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

আইএসএফ নেতার আরও দাবি, এর আগেও একইভাবে তাঁর বাড়ির সামনে বোমা রাখা হয়েছিল। স্থানীয় কর্মীদের অভিযোগ, প্রশাসন সব জেনেও কার্যত কোনও কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে না, ফলে তাদের বক্তব্য গুরুত্ব পাচ্ছে না।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। স্থানীয় এক নেতা পালটা দাবি করেছেন, এলাকায় অশান্তি তৈরির জন্য আইএসএফ নিজেই এই ঘটনা সাজিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, কয়েকদিন আগে একটি বাগান থেকেও বোমা উদ্ধার হয়েছিল, যা নাকি আইএসএফের লোকজনই মজুত করেছিল। তৃণমূলের দাবি, কাউকে ভয় দেখানোর জন্য তাদের বোমার আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং নিজেদের দায় এড়াতেই এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

দুই পক্ষের এই রাজনৈতিক তরজার মাঝখানে এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে হাবিবুল রহমানের পরিবার। ভোটের আগে বাড়ির সামনে বোমা মেলায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আশপাশের বাসিন্দারাও। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দিলেও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। কারা এই বোমা রেখে গেল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad