কোহেফিজা এলাকায় অনুষ্ঠিত ইত্তেহাদ-উল-মুসলিমীন সভায় সামাজিক ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব এবং মানবতার বার্তা দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর প্রতিনিধি মৌলানা ডক্টর আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহির উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বাড়ায়। অনেক মানুষ জাতীয় পতাকা নিয়ে এই সভায় যোগ দেন। আবার কিছু ছোট শিশু ফিলিস্তিনের পতাকা ছাপা টি-শার্ট পরে দেখা যায়, যার পেছনে ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতার ছবি ছিল।
মৌলানা ইলাহি বলেন, এই যুদ্ধ ইরান শুরু করেনি, বরং এটি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত লড়াই। এতে না আমেরিকার লাভ হচ্ছে, না ইজরায়েলের।
নিজের বক্তব্যে তিনি মানুষকে নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সমাজের শক্তি একতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যেই রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার এবং মানবতার পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেন। তিনি আমেরিকা ও ইজরায়েলের নীতির সমালোচনাও করেন এবং বলেন, বিশ্বে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে একজোট হতে হবে। এই সভায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ছবিও দেখা যায়।
মৌলানা আরও জানান, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর সঙ্গে ভারতের গভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি ভারতের ইতিহাস ও সাহিত্য নিয়ে আগ্রহী ছিলেন এবং বহু বই পড়েছেন। তিনি প্রায় দুইশো পঞ্চাশটি বই লিখেছেন, যার মধ্যে দুটি বই ভারতকে নিয়ে। ভারতের ইতিহাস বোঝার জন্য তিনি বাইশটি বই পড়েছিলেন। বিশেষ করে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর লেখা ‘ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া’ বইটি তাঁকে খুব প্রভাবিত করেছিল। তিনি প্রায়ই যুব সমাজকে এই বই পড়ার পরামর্শ দিতেন। ভারতের প্রতি তাঁর বিশেষ টান ছিল এবং ভারতীয় লেখক, সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদদের নিয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করতেন।
একটি ঘটনার কথা বলতে গিয়ে মৌলানা জানান, একবার ভারতের এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। প্রথমে পনেরো মিনিটের জন্য সময় নির্ধারিত ছিল, কিন্তু কথোপকথন শুরু হওয়ার পর তা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। সেই সময় আয়াতুল্লাহ খামেনেই ওই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর জীবন ও পরিবার সম্পর্কে অনেক তথ্য শেয়ার করেন, যা শুনে তিনি নিজেও অবাক হয়ে যান। পরে তিনি বলেন, এত তথ্য তিনি আগে জানতেন না।

No comments:
Post a Comment