২০২৫ সালে পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার প্রথম বার্ষিকীর ঠিক আগে, ভারত আবারও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এই বার্তা দেয় যে, দেশটি আর কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সহ্য করবে না এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সতর্ক ও কঠোর।
২০২৫ সালের ২২শে এপ্রিল যে ঘটনাটি জাতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল
২০২৫ সালের ২২শে এপ্রিল, পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীরা জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটকদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ছাব্বিশ জন প্রাণ হারান। এই হামলা পুরো জাতিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। প্রতিবেদন অনুসারে, সন্ত্রাসীরা মানুষের ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর তাদের গুলি করে, যা ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
সেনার কড়া বার্তা
হামলার বর্ষপূর্তির আগে ভারতীয় সেনা সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছে, যেখানে জঙ্গি ও তাদের সহযোগীদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে। সেনা জানিয়েছে, যখন মানবতার সীমা লঙ্ঘন করা হয়, তখন তার জবাবও হয় কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক। পাশাপাশি বলা হয়েছে, “ভারত ঐক্যবদ্ধ এবং দেশ কখনও কিছু ভোলে না।” এই বার্তাকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের শূন্য সহনশীলতার নীতিরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অপারেশন সিঁদুর স্মরণে
হামলার পর, ভারত ৭ই মে, ২০২৫-এ 'অপারেশন সিঁদুর'-এর অধীনে একটি বড় সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) অবস্থিত সন্ত্রাসী আস্তানাগুলো। এই অভিযানে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনসহ বেশ কয়েকটি প্রধান সন্ত্রাসী সংগঠনের আস্তানা ধ্বংস করা হয় এবং বিপুল সংখ্যক সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়।
অপারেশন সিঁদুরের পর উত্তেজনা বৃদ্ধি
এই অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পাকিস্তানের ড্রোন হামলা এবং গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া যায়, যার জবাবে ভারতীয় সেনাবাহিনী কঠোর জবাব দেয়। জানা যায় যে, এই পাল্টা হামলায় পাকিস্তানের বেশ কিছু সামরিক পরিকাঠামো এবং রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে দুই দেশের মহাপরিচালকদের মধ্যে আলোচনার পর ১০ই মে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
অপারেশন মহাদেব এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
পরবর্তীতে, নিরাপত্তা বাহিনী 'অপারেশন মহাদেব'-এর অধীনে পাহালগাম হামলায় জড়িত আরও তিন সন্ত্রাসীকে হত্যা করে। ভারতও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে বাণিজ্য ও নির্দিষ্ট কিছু চুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত।
প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কঠোর অবস্থান
প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভারতে সন্ত্রাসী হামলার জবাব সর্বদা শক্তিশালী ও চূড়ান্ত হবে। সেনাপ্রধানরা তিন সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে চমৎকার সমন্বয় এবং শক্তিশালী কৌশলের উদাহরণ হিসেবে ‘অপারেশন সিন্ধুর’-এর কথাও উল্লেখ করেছেন।


No comments:
Post a Comment