ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২০ এপ্রিল ২০২৬: পারিবারিক বিবাদে ভয়ানক সহিংসতা, চলল এলোপাথাড়ি গুলি। ঘটনায় আটটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ আধিকারিকরা বলছেন, ঘটনাটি একটি পারিবারিক বিবাদ থেকেই ঘটেছে। আমেরিকার লুইজিয়ানা রাজ্যের শ্রেভেপোর্ট শহরে ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
আধিকারিকরা জানিয়েছে যে, পারিবারিক বিবাদের জেরে গুলি চলে এবং এতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বয়স ছিল ১ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। শ্রেভেপোর্ট পুলিশ প্রধান ওয়েন স্মিথের মতে, রবিবার সকাল ৬টার দিকে এই গুলি-কাণ্ডটি ঘটেছে। তিনি জানান, এই ঘটনায় মোট ১০ জন আহতও হয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্মিথের মতে, পুলিশ হামলাকারীকে ধাওয়া করে গুলি চালায়। গুলির লড়াইয়ে সে মারাও যায়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, হামলাকারী একটি গাড়ি ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পুলিশ তাকে ধাওয়া করতে থাকে। গাড়িটিকে ধাওয়া করার সময় পুলিশ গুলি চালালে হামলাকারীর মৃত্যু হয়। লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশ এই গুলি কাণ্ডের তদন্ত করছে।
স্টেট পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, "তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পর্যালোচনা করছেন এবং আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন।" স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনও পুলিশ কর্তা আহত হননি।
কংগ্রেসে শ্রেভপোর্ট এলাকার প্রতিনিধি জনসন বলেছেন, "এই অত্যন্ত কঠিন সময়ে আমরা ভুক্তভোগী, তাঁদের পরিবার ও প্রিয়জনদের এবং আমাদের শ্রেভপোর্ট সম্প্রদায়কে আমাদের প্রার্থনা ও চিন্তায় রাখছি।"
এই ঘটনা সম্পর্কে মেয়র টম আর্সেনো বলেছেন, "এটি একটি মর্মান্তিক পরিস্থিতি, সম্ভবত শ্রেভপোর্টের দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।"
শ্রেভপোর্ট পুলিশ প্রধান ওয়েন স্মিথ বলেছেন, "আমি জানি না কী বলব। আমার হৃদয় স্তব্ধ হয়ে গেছে। এমন কিছু কীভাবে ঘটতে পারে, তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না।"
পুলিশ প্রধান ওয়েন স্মিথ বলেন, "পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই গুলির ঘটনাটি ঘটেছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে শিশুদের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল, অর্থাৎ তাদের মধ্যে কয়েকজন তার নিজের পরিবারেরই ছিল। কীভাবে ও কেন এই ঘটনাটি ঘটল, তা জানতে পুলিশ বর্তমানে পরিস্থিতি তদন্ত করছে।"
উল্লেখ্য, শ্রেভপোর্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম অংশের একটি শহর, যার জনসংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার। ঘটনাটি ওয়েস্ট ৭৯তম স্ট্রিটের ৩০০ ব্লকে ঘটেছে। এটি একটি আবাসিক এলাকা যেখানে পরিবারগুলো বসবাস করে।
স্থানীয় পুলিশের অনুরোধে লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই ঘটনা সম্পর্কিত কোনও ছবি, ভিডিও বা তথ্য থাকলে এগিয়ে আসার জন্য তাঁরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। হামলার উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয় এবং তদন্ত চলছে।

No comments:
Post a Comment