নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ: রাজ্যে ভোট একেবারে দোরগোড়ায়। তার আগেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ মুর্শিদাবাদে। সোমবার সকালে ফরাক্কা থানার নয়নসুখ মানিকনগর এলাকায় এক কংগ্রেস কর্মীর বাড়ির ছাদে মজুদ করে রাখা বোমা ফেটে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়ির ছাদের পাঁচিলের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। যদিও এই ঘটনায় এখনও (প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত) কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নয়নসুখ ১৩৬ নম্বর বুথ এলাকার বাসিন্দা তথা কংগ্রেস কর্মী সাইমুল শেখের বাড়িতে এদিন সকালে হঠাৎই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সেই সময় বাড়িতে রাজমিস্ত্রিরা দেওয়াল গাঁথুনির কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবী, ছাদের এক কোণে আগে থেকেই দু'টি বোমা রাখা ছিল, যা আচমকাই ফেটে যায়। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা, আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ফরাক্কা থানার আইসি অমিত কুমার মুখোপাধ্যায়-সহ বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েনও করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। তবে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই সাইমুল শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পলাতক।
এদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনে সন্ত্রাস করতেই মজুত রাখা হয়েছিল এই বোমা। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আমিরুল ইসলাম বলেন, '২৩ তারিখ প্রথম দফার নির্বাচন। ১৩৬ নং বুথের কংগ্রেসের বুথ সভাপতি সাইমুল শেখ। তাঁর বাড়ির ছাদে বোমা মজুদ ছিল। সেটাই বিস্ফোরণ হয়।' তাঁর দাবী, কংগ্রেসের বুথ সভাপতি সাইমুল শেখ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে পঞ্চায়েত সমিতির পদে লড়াই করেছিলেন, ইনি ফারাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএমের প্রার্থী মোজাফফর হোসেনের আত্মীয়। এরা নির্বাচনে সন্ত্রাস করার জন্য এই বোমা মজুদ করেছিল।'
তাঁর আরও অভিযোগ, সাইমুল শেখ নির্বাচন এলেই সন্ত্রাস করে, এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে। তিনি কংগ্রেস-সিপিএমকে তোপ দেগে বলেন, 'ভোটে হার নিশ্চিত জেনেই এই সন্ত্রাস করে তাঁরা জিততে চাইছেন এবং এর জন্য বোমা মজুদ রেখেছিল।' তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানান।
অন্যদিকে, ফরাক্কা ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আব্দুল বাসিরের বক্তব্য, "যাঁর বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তিনি আমাদের দলের কর্মী। কিন্তু ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন ভোটের আগে তাঁকে ফাঁসানোর জন্য গোপনে তাঁর বাড়িতে বোমা রাখা হয়েছিল।" তিনি জানান, প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে গোটা ঘটনার তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে তাঁদের তরফে।
পুলিশ বর্তমানে ওই বাড়িটি ঘিরে রেখেছে। ঠিক কী কারণে বাড়ির ছাদে বোমা মজুত করা হয়েছিল এবং এর নেপথ্যে অন্য কোনও বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পলাতক পরিবারের সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নাকি অন্য কোনও কারণে এই বিস্ফোরণ, তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে ফরাক্কা থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বর্তমানে চাপা উত্তেজনা রয়েছে এলাকায়।

No comments:
Post a Comment