কাশী থেকে গঙ্গাজল ঘরে আনা হয় না কেন? জানুন এর পেছনের ধর্মীয় কারণ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, April 16, 2026

কাশী থেকে গঙ্গাজল ঘরে আনা হয় না কেন? জানুন এর পেছনের ধর্মীয় কারণ



প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০০:০১ : কাশী হিন্দুধর্মের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের এই পবিত্র নগরীতে গঙ্গাস্নানের প্রথা বহু যুগ ধরে চলে আসছে। কিন্তু অনেক ভক্ত কাশী থেকে গঙ্গাজল ঘরে নিয়ে যেতে সংকোচ বোধ করেন। এর পেছনে গভীর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস রয়েছে।



শাস্ত্র ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কাশী হল মুক্তিক্ষেত্র। এখানে আগত প্রতিটি জীব—মানুষ হোক বা সূক্ষ্ম প্রাণ—মোক্ষ লাভ করে বলে মনে করা হয়। এই কারণেই অনেকের ধারণা, কাশী থেকে গঙ্গাজল বাইরে নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়।



কাশী কেন মুক্তিক্ষেত্র?

কাশীকে অবিমুক্ত ক্ষেত্র বলা হয়, অর্থাৎ এখানে মুক্তি কখনও বিচ্ছিন্ন হয় না। বিশ্বাস করা হয়, ভগবান শিব নিজে এখানে অধিষ্ঠিত থেকে মৃত্যুকালে তারক মন্ত্র উচ্চারণ করে জীবকে মুক্তি দান করেন। পুরাণ অনুযায়ী, কাশীতে মৃত্যুবরণ করলে আত্মা সরাসরি শিবলোক প্রাপ্ত হয়। এখানকার গঙ্গাও মুক্তিদায়িনী বলে বিবেচিত।



গঙ্গাজলে থাকা সূক্ষ্ম জীবের মুক্তি

গঙ্গাজল কেবল জল নয়—এতে অসংখ্য সূক্ষ্ম জীব বিদ্যমান। কাশীর পবিত্রতার প্রভাবে এই জীবগুলিও মুক্তি পেয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই যখন কেউ গঙ্গাজল বোতলে ভরে বাইরে নিয়ে যান, তখন মনে করা হয় তিনি সেই মুক্ত প্রাণীদের আবার বদ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছেন, যা অনুচিত বলে ধরা হয়।



মুক্ত উপাদানকে বাইরে নেওয়ার ধারণা

ধর্মীয় মতানুসারে, কাশীতে যে উপাদান মুক্তি লাভ করেছে, তাকে সেখান থেকে সরানো উচিত নয়। গঙ্গাজলে থাকা সূক্ষ্ম জীবও সেই মুক্তির অংশ। তাদের কাশীর বাইরে নিয়ে যাওয়া একপ্রকার অনৈতিক কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়—এই বিশ্বাস থেকেই অনেক ভক্ত গঙ্গাজল সঙ্গে করে নিয়ে যান না।



তাহলে কী করা উচিত?

অনেক পণ্ডিতের মতে, কাশী থেকে গঙ্গাজল আনার চেয়ে সেখানে গঙ্গাস্নান করাই বেশি পুণ্যজনক। গঙ্গাজল কাশীতেই রাখা শ্রেয় বলে ধরা হয়। যদি ঘরে গঙ্গাজলের প্রয়োজন হয়, তবে হরিদ্বার, প্রয়াগরাজ বা গোমুখ থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে।



গঙ্গাজলের পবিত্রতা তার পরিমাণে নয়, বরং বিশ্বাস ও অনুভূতিতে নিহিত। তাই কাশী থেকে গঙ্গাজল নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সেই পবিত্রতার অনুভূতি হৃদয়ে ধারণ করাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad