প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩০:০১ : বিরোধী দলগুলোর বাধার কারণে শুক্রবার সংসদে ‘নারী শক্তি বন্দন আইন’ পাশ না হওয়ার পর শনিবার দুপুরে বিজেপি বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামে। দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১০ হাজারেরও বেশি মহিলা মোতিলাল নেহরু মার্গে জড়ো হন। দিল্লি বিজেপির সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেবা এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা-সহ একাধিক শীর্ষ নেতার বক্তব্যের পর তারা লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী-র সোনহরি বাগের বাসভবনের দিকে এগিয়ে যান।
এই সময় রাহুল গান্ধীর কুশপুত্তলিকা দাহ করতে গেলে দিল্লি পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিয়ে মহিলাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিজেপির প্রাদেশিক সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেবা, কমলজিৎ সহরাওয়াত, বংশুরি স্বরাজ, যোগিতা-সহ বেশ কয়েকজন মহিলা নেত্রীকে গ্রেপ্তার করে সংসদ মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বীরেন্দ্র সচদেবা বলেন, গতকাল সংসদে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল, যার মাধ্যমে সাধারণ পরিবারের মা-বোনেরা তাদের অধিকার পেতেন। কিন্তু বিরোধী নেতারা তা হতে দেননি এবং দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আজ দেশের সর্বত্র মা-বোনেরা নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন, অথচ বিরোধীরা শুধু রাজনীতি করছে। দিল্লির রাস্তায় আজ মহিলারা রাহুল গান্ধীর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে জবাব চাইছেন—মহিলারা কি ৩৩ শতাংশ অধিকার পাবেন না?
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেন, বিরোধী দলগুলো সংসদে একসঙ্গে এই বিলের বিরোধিতা করেছে। গত ৩০ বছর ধরে দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা বারবার অপমানিত হচ্ছে। কখনো বিল ছিঁড়ে ফেলা হয়, কখনো বিরোধিতা করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ পরিবারের মহিলারা সংসদে গেলে কিছু রাজনৈতিক পরিবারের ক্ষমতা নড়ে যেতে পারে—এই ভয়েই বিরোধীরা বাধা দিচ্ছে।
সাংসদ মনোজ তিওয়ারি বলেন, বিল পাশ না হওয়ায় তিনি স্তম্ভিত। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, আজ না হোক কাল মহিলারা তাদের অধিকার অবশ্যই পাবেন।
বিজেপি সাংসদ হেমা মালিনী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের মহিলাদের অধিকার নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছেন, কিন্তু বিরোধীরা নানা অজুহাতে তা আটকে দিচ্ছে। তিনি বলেন, মহিলারা যেন পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।
বিজেপি নেত্রী কমলজিৎ সহরাওয়াত অভিযোগ করেন, মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কংগ্রেস তা আটকে দিয়েছে।
নতুন দিল্লির সাংসদ বংশুরি স্বরাজ বলেন, মহিলারা নিজেদের অধিকার আদায়ে রাস্তায় নেমেছেন, জলকামান বা লাঠিচার্জ তাদের থামাতে পারবে না। দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা এখন শুধু ভোট দেওয়ার জন্য নয়, নীতিনির্ধারণেও নিজেদের অংশীদারিত্ব দাবি করছে।

No comments:
Post a Comment