সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, ভারত-উজবেকিস্তানের যৌথ সামরিক মহড়া - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, April 12, 2026

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, ভারত-উজবেকিস্তানের যৌথ সামরিক মহড়া



প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১৫:০১ : ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৬০ জন জওয়ানের একটি দল রবিবার ভারত-উজবেকিস্তানের যৌথ সামরিক মহড়া ‘অভ্যাস ডাস্টলিক’-এর সপ্তম সংস্করণে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে। এই মহড়া রবিবার থেকেই উজবেকিস্তানে শুরু হয়েছে এবং আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই মহড়া প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে ভারত ও উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হল সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং অর্ধ-পাহাড়ি অঞ্চলে যৌথ অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা উন্নত করা।



প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এই মহড়া দুই দেশের সেনাবাহিনীকে যৌথ অভিযান পরিচালনার কৌশল, পদ্ধতি ও নিয়ম সম্পর্কে নিজেদের সেরা অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ করে দেবে। বর্তমানে উভয় দেশের সেনারা বিশেষ অভিযানের জন্য কঠোর ও নিখুঁত প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এই মহড়ার প্রধান লক্ষ্য সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। সৈনিকদের বাস্তব পরিস্থিতির মতো পরিবেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে যুদ্ধকালীন যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে ঘেরাও, তল্লাশি অভিযান এবং জিম্মিদের নিরাপদে উদ্ধার করার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই আয়োজন দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মজবুত করবে।



এই মহড়ায় দুই দেশেরই ৬০ জন করে সেনা অংশগ্রহণ করছে। ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৪৫ জন জওয়ান রয়েছেন, যাদের অধিকাংশ ‘মহার রেজিমেন্ট’-এর একটি ব্যাটালিয়ন থেকে এসেছে। এছাড়া ভারতীয় বায়ুসেনার ১৫ জন সদস্যও অংশ নিচ্ছেন। উজবেকিস্তানের পক্ষ থেকেও সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনার মিলিয়ে মোট ৬০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করছে। এই মহড়ার লক্ষ্য অর্ধ-পাহাড়ি এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি করা। এতে উচ্চ মানের শারীরিক সক্ষমতা, যৌথ পরিকল্পনা, সামরিক কৌশল এবং বিশেষ অস্ত্র ব্যবহারের মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।



মহড়ার সময় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যেমন স্থলপথ নির্ধারণ, শত্রুর ঘাঁটিতে আক্রমণ এবং শত্রুর দখলে থাকা এলাকা পুনর্দখল করা। ভারতীয় সেনারা উজবেকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেবে। এই যৌথ প্রশিক্ষণের সমাপ্তি হবে ৪৮ ঘণ্টার একটি যাচাই মহড়ার মাধ্যমে, যার উদ্দেশ্য যৌথ অভিযানের কৌশলগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা। এতে অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিষ্ক্রিয় করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।



‘অভ্যাস ডাস্টলিক’ দুই দেশের সেনাদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, বোঝাপড়া এবং যৌথ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি এটি দুই দেশের সৈনিকদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad