প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০০:০১ : তামার পাত্রে রাখা জল হজমের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। তবে হজম ঠিক করার চেষ্টায় নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করা উচিত নয়। যদিও আয়ুর্বেদে তামার পাত্রে রাখা জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কিছু বিশেষ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই জল ক্ষতির কারণ হতে পারে।
আয়ুর্বেদ অনুযায়ী তামার পাত্রে রাখা জল উষ্ণ, কষায় ও তিক্ত গুণের হয়। এটি শরীরে পিত্ত ও জঠরাগ্নি বাড়ায়। তাই কিছু রোগে এই তাম্রজল পান করা ক্ষতিকর হতে পারে।
অতিরিক্ত তামা শরীরের জন্য ক্ষতিকর
গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে তামার পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে তা কোষের ক্ষয় বাড়ায়, হজমের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই কিছু অবস্থায় তামার পাত্রের জল একেবারেই পান করা উচিত নয়।
ডায়াবেটিস রোগী
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তামার পাত্রের জল এড়িয়ে চলা উচিত। শরীরে অতিরিক্ত তামা রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং রক্তনালীর ক্ষতি বাড়াতে পারে।
কিডনি রোগী
যাদের কিডনি সংক্রান্ত সমস্যা আছে, তাদের তামার পাত্রে রাখা জল পান করা উচিত নয়। অতিরিক্ত তামা কিডনির উপর চাপ বাড়িয়ে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
পিত্তের সমস্যা থাকলে
যাদের শরীরে পিত্ত বেশি, তাদের অম্লতা, আলসার বা ত্বকে ফুসকুড়ির সমস্যা দেখা যায়। তামার জল পান করলে মুখে ঘা বা শরীরে জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে।
লিভারের রোগী
যাদের যকৃতের সমস্যা রয়েছে, তাদের এই জল থেকে দূরে থাকা উচিত। এতে শরীরের বিপাকক্রিয়া আরও খারাপ হতে পারে।
শিশুদের জন্য নয়
ছোট শিশুদের শরীর খুব সংবেদনশীল হয়। তাই তাদের নিয়মিত তামার পাত্রের জল দেওয়া উচিত নয়।
তামায় অ্যালার্জি থাকলে
কিছু মানুষের তামায় অ্যালার্জি থাকতে পারে। এতে বমি, বমিভাব বা পেটে ব্যথা হতে পারে।
নিরাপদভাবে তামার জল পান করার নিয়ম
প্রতিদিন না খেয়ে সপ্তাহে ২-৩ বার পান করাই যথেষ্ট।
৬-৮ ঘণ্টার বেশি জল তামার পাত্রে রাখা উচিত নয়।
গরমকালে বেশি পান করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি শরীরে তাপ বাড়ায়।
কোনো রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই পান

No comments:
Post a Comment