কলকাতা, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৩৫:০১ : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি একের পর এক জনসভা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিষ্ণুপুরে একটি নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে আদিবাসী-বিরোধী বলে অভিযোগ করে বলেন, তৃণমূল কখনোই চায়নি কোনো আদিবাসী নারী দেশের রাষ্ট্রপতি হন। তাঁর দাবি, মমতা সরকার আদিবাসীদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা নববর্ষ শুরুর পর এটাই রাজ্যে তাঁর প্রথম জনসভা। তিনি জানান, তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই মানুষের ভিড় অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। তাঁর মতে, বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের জন্য দৃঢ় সংকল্প করেছে।
তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের জন্য তৃণমূল সব আইন ভেঙে দেয় এবং শুধু তাদের কথাই শোনে। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের দুর্নীতিতে রাজ্যের মা-বোনেরা অত্যন্ত কষ্টে রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের ‘জঙ্গলরাজ’-এর বিরুদ্ধে বাংলার নারীরাই আজ প্রতিবাদে নেমেছে এবং এই পরিস্থিতির কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। তিনি বাংলার নারীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, তৃণমূলকে শাস্তি দিতে হবে।
নারী সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল বাংলার সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং নারী সংরক্ষণ বিল পাস হতে দেয়নি। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল ও কংগ্রেস মিলিতভাবে ষড়যন্ত্র করে এই বিল আটকে দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলার নারীরা ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চেয়েছিল এবং তিনি তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে তৃণমূল চায়নি বাংলার নারীরা বেশি সংখ্যায় বিধায়ক ও সাংসদ হোক, কারণ তারা তৃণমূলের শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এবারের নির্বাচন ঐতিহাসিক হতে চলেছে। তিনি দাবি করেন, বাংলায় ভয়ের সময় শেষ হয়ে সেবার সময় শুরু হবে। তাঁর কথায়, তৃণমূলের সিন্ডিকেট ব্যবস্থার স্থায়ী অবসান ঘটবে। তিনি বলেন, বাংলার শক্তি ও মানুষের আওয়াজে তৃণমূল ভীত হয়ে পড়েছে। তিনি দুর্নীতিগ্রস্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্বাচনের আগেই আত্মসমর্পণ করা উচিত, কারণ ফলাফলের পর রাজ্যে দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করবে এবং তৃণমূলের প্রভাব শেষ হবে।

No comments:
Post a Comment