প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৩৫:০১ : অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকার বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন। চার দশকেরও বেশি সময় পর অস্ট্রিয়ার কোনও চ্যান্সেলরের এই ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। এটি ক্রিশ্চিয়ান স্টকারের প্রথম এশিয়া সফর, ফলে এই সফরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ১৪ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই সফরে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ—এই তিনটি ক্ষেত্রকে সহযোগিতার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।
ভারত ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আরও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। অস্ট্রিয়ার সংস্থাগুলি ভারতে নির্মাণ, রেলপথ, সুড়ঙ্গ নির্মাণ এবং আধুনিক উৎপাদন ক্ষেত্রে সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সক্ষমতা এবং বৃহৎ বাজারকে গুরুত্ব দিয়ে অস্ট্রিয়া বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী।
এই সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে—
• অডিও-ভিজ্যুয়াল যৌথ প্রযোজনায় সহযোগিতা
• খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়
• বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা
• প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব
• সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যৌথ কার্যদল
• দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি
এছাড়াও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সংলাপ, নবীন উদ্যোগ সংযোগ, শিক্ষা সহযোগিতা এবং মহাকাশ শিল্পে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এই ক্ষেত্রে একটি যৌথ কার্যদল গঠন করা হবে, যা প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর কাজ করবে। পাশাপাশি দুই দেশই সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে যৌথভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।
জ্বালানি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে সবুজ হাইড্রোজেন, শক্তি সংরক্ষণ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় যৌথ কাজের আলোচনা হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি সহযোগিতাকে এই সম্পর্কের মূল স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবন।
যুব সমাজ ও পেশাজীবীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত অভিবাসন ও গতিশীলতা চুক্তি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে এবং তার ইতিবাচক ফল দেখা যাচ্ছে। অস্ট্রিয়ায় ভারতীয় পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। কর্মভিত্তিক ছুটির কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী যুবকদের এক বছর থাকার ও কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে। নার্সিং ও স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রেও ভারতীয়দের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথ খুলবে।
শিক্ষা ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে অস্ট্রিয়ার প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ভারত-কেন্দ্রিক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ক স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তির জন্য একটি আলাদা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।
বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে একমত হওয়া গেছে। ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় উভয় দেশই জানিয়েছে যে যে কোনও বিরোধের সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই সম্ভব। সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও বিশ্ব স্থিতিশীলতাকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে তারা একমত হয়েছে।

No comments:
Post a Comment