কলকাতা: কেন্দ্রীয় বাহিনীর মারে মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধ ভোটারের। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তুলোধোনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় রীতিমতো চটে লাল অভিষেক। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ এই বিষয়ে তিনি পোস্ট করেছেন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে 'বিজেপির নিজস্ব সেনাবাহিনী' ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুণ্ডা বলে তোপ দেগেছেন। তিনি জানান যে, ঘটনাটি হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুরে ঘটেছে।
অভিষেক সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, 'অমিত শাহের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির নিজস্ব সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়েছে—বাংলার মানুষের ওপর লেলিয়ে দেওয়া একদল লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুণ্ডা।'
তিনি লেখেন, 'উদয়নারায়ণপুরে এক বৃদ্ধ তাঁর ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। এতটাই দুর্বল যে একা হাঁটতে পারছিলেন না, তাই তাঁর ছেলে তাঁকে বুথে ঢুকতে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী দুজনকেই ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করে। বৃদ্ধটি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, তাঁকে দ্রুত আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।'
তিনি লিখেছেন, 'ভোর থেকে এই কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে—মহিলাদের চড় মারছে, বয়স্কদের ওপর হামলা করছে, এমনকি শিশুদেরও আক্রমণ করছে।' তাঁর কথায়, 'এটা শীতলকুচি মানসিকতা: ঠাণ্ডা মাথায় নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর নির্মম সহিংসতা।'
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ লেখেন, '২০২১ সালে নিরীহদের রক্তের জন্য বিজেপিকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। ২০২৬ সালে তাদের আরও চড়া মূল্য দিতে হবে। আর বাংলায় ঘুরে বেড়ানো জল্লাদদের বলছি, আপনারা কোন রাজ্য থেকে এসেছেন তাতে কিছু যায় আসে না। কার রাজনৈতিক মদত প্রাপ্ত রয়েছে, তাতেও কিছু যায় আসে না। এই বর্বরতার সাথে জড়িত প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হবে এবং আইনের আওতায় সাজা দেওয়া হবে। আপনাদের এই ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটবে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মাধ্যমে।'
এই বিষয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি, কেন্দ্রীয় পুলিশ বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

No comments:
Post a Comment