প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১৫:০১ : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তাঁর চেনা ভঙ্গিতে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রবিবার এক বক্তব্যে তাঁর দু’টি ভিন্ন রূপ দেখা গেছে। একদিকে তিনি ইরানের পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকি দেন, অন্যদিকে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য ‘যথাযথ ও যুক্তিসঙ্গত’ সমঝোতার প্রস্তাবও রাখেন।
যুদ্ধবিরতি ভাঙার অভিযোগে ক্ষোভ
নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি ইরানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ইরান গতকাল হরমুজ প্রণালী এলাকায় গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙেছে। তিনি বলেন, এই গুলির কিছু ফরাসি ও ব্রিটিশ জাহাজের দিকেও ছোঁড়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
এই কড়া বার্তার মাঝেই তিনি আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। তিনি জানান, তাঁর প্রতিনিধি দল সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবে এবং সেখানে একটি ‘খুবই যুক্তিসঙ্গত চুক্তি’ নিয়ে আলোচনা হবে।
অবরোধ ও অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রসঙ্গ
ইরান যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার কথা বলেছে, তা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আমেরিকার অবরোধের কারণেই এটি কার্যত আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, এর ফলে ইরানের প্রতিদিন বিপুল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অথচ আমেরিকার তেমন ক্ষতি হচ্ছে না। বরং অনেক জাহাজ এখন আমেরিকার বিভিন্ন উপকূলে গিয়ে জ্বালানি নিচ্ছে।
কঠোর হুঁশিয়ারি
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি এই চুক্তি না মেনে নেয়, তাহলে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। তাঁর কথায়, প্রয়োজনে আমেরিকা ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ধ্বংস করে দেবে। তিনি আরও বলেন, বহু বছর ধরে যা করা হয়নি, সেটি সম্পন্ন করাই তাঁর লক্ষ্য।
অস্থির পরিস্থিতি ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এই সরাসরি সংঘাত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হয়। পরে একটি অস্থির যুদ্ধবিরতি হয়, যার মধ্যস্থতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী ইরান জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সম্মত হলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় আবার উত্তেজনা বেড়েছে। বর্তমানে আমেরিকা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইরান পাল্টা অভিযোগ তুলে আবারও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এখন সবার নজর ইসলামাবাদে হতে চলা দ্বিতীয় দফার আলোচনার দিকে, যেখানে এই উত্তেজনা কমানোর কোনও পথ বের হয় কি না, সেটাই দেখার।
No comments:
Post a Comment