কলকাতা: রবিবাসরীয় সকালে শহরে ইডির অভিযান। বালিগঞ্জে ফার্ন রোডে ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের ফ্ল্যাটে ইডির হানা। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ফ্ল্যাটে ইডি। এর পাশাপাশি ফার্ন রোডের আরও এক ঠিকানায় হানা দিয়েছে ইডি। এছাড়াও ব্যবসায়ী তথা সান গ্ৰুপের কর্ণধার জয় এস কামদারের বাড়িতেও।
অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর অধীনে কয়লা কেলেঙ্কারি তদন্তের সূত্রে, ২০২৬ সালের ২৮শে মার্চ জারি করা একটি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৬ সালের ৬ই এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) শান্তনু সিনহাকে তলব করে। তিনি হাইকোর্টে ইডির এই তলবকে চ্যালেঞ্জ করেন। মেডিকেল এনআরআই কোটা ভর্তি কেলেঙ্কারির সূত্রেও ইডি তাঁকে তলব করেছিল। তবে, এবার অন্য মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থাটি সরাসরি তাঁর বাড়িতে হানা দিল।
এদিন সকাল ৬টার আগেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছয় ইডি। দীর্ঘদিন কালীঘাট থানার দায়িত্বে ছিলেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। বর্তমানে কলকাতা পুলিশের ডিসি পদে রয়েছেন। এর আগেও শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি।
গত শুক্রবার রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর দফতর হানা দিয়েছিল। জানা যায়, তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল সোন পাপ্পুর মামলারও। এই মামলার তদন্তভার নিয়েছিল ইডি। মামলার তদন্তে একাধিক নাম উঠে আসে। এর মধ্যে যেমন জয় কামদারের নাম ছিল, তেমনই নাম ছিল পুলিশ কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের। সেই সূত্র ধরেই এদিন শহর জুড়ে ইডির অভিযান।
এদিন ভোর ৪টে নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্স থেকে রওনা দেয় ইডির দল। সকাল ৬টার আগেই ইডির ৬ টি গাড়ি পৌঁছে যায় ফার্ন রোডের নির্দিষ্ট আবাসনে। এরপর মুহূর্তেই গোটা আবাসন চলে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর দখলে। এমনকি তালা দিয়ে দেওয়া হয় এই আবাসনের মূল গেটে। তালা দিয়ে দেওয়া হয় আবাসনের পিছনের দিকের গেটেও। জানা যাচ্ছে, ইডি আধিকারিকরা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ফ্ল্যাটে ঢুকে তল্লাশি করছেন। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাঁর পরিবারের লোকেদেরও। মূলত সোনা পাপ্পুর মামলার সূত্র ধরেই আজ ইডির এই অভিযান।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ কলকাতার বিস্তর এলাকা জুড়ে রিয়েল এস্টেটের আড়ালে তোলাবাজি মতো সংগঠিত অপরাধ করে এসেছে সোনা পাপ্পু ও তাঁর দলবল, এমনই অভিযোগ। সেই ঘটনাতেই এদিন শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকদের।

No comments:
Post a Comment