প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২২:০১ : ভারত সরকার দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন উচ্চায়ুক্ত হিসেবে নিয়োগ করেছে। এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যখন ভারত ও বাংলাদেশ-এর মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং দুই দেশই সম্পর্ককে ভারসাম্যপূর্ণ ও আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে।
প্রাক্তন রেলমন্ত্রী এবং প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা দিনেশ ত্রিবেদীর এই নিয়োগকে রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ-এর রাজনীতিকে মাথায় রেখে একে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
দিনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক জীবন নানা গুরুত্বপূর্ণ মোড় পেরিয়েছে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস-এর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ছিলেন এবং ওই দলের পক্ষ থেকেই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে তিনি তৃণমূল থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন।
দিনেশ ত্রিবেদী এখন প্রণয় ভার্মা-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে বাংলাদেশে ভারতের উচ্চায়ুক্তের দায়িত্ব নেবেন। অন্যদিকে প্রণয় ভার্মাকে ব্রাসেলসে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তিনি ইউরোপীয় সংঘে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই পরিবর্তনকে ভারতের কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেও পড়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার পর মোহাম্মদ ইউনুস-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়। এই সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাও সামনে আসে, যার ফলে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের পর তারিক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব ও বিতর্ক
যুক্ত প্রগতিশীল জোট সরকারের সময় দিনেশ ত্রিবেদী রেলমন্ত্রী ছাড়াও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০১২ সালে রেল বাজেটে যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব ঘিরে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শেষ পর্যন্ত ত্রিবেদীকে পদত্যাগ করতে হয়। পরে তাঁর জায়গায় মুকুল রায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।
বিজেপিতে যোগদান ও নির্বাচন
দিনেশ ত্রিবেদী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং ৬ মার্চ ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। সেই বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হয়, যেখানে বহু তৃণমূল নেতা বিজেপিতে যোগ দেন। তবে নির্বাচনে বিজেপি মাত্র ৭৭টি আসনে জয় পায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও মুখ্যমন্ত্রী হন।
১৯৫০ সালের ৪ জুন জন্মগ্রহণকারী দিনেশ ত্রিবেদী ২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। এছাড়া ১৯৯০-৯৬ এবং ২০০২-০৮ সময়কালে তিনি রাজ্যসভার সদস্যও ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাংলাদেশে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

No comments:
Post a Comment