কলকাতা: ভোটের ফল ঘোষণার আগে ইভিএম এবং ব্যালট বক্সের নিরাপত্তা নিয়ে নজিরবিহীন উত্তেজনা ছড়াল কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে। স্ট্রংরুমের ভেতরে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রের গেটে অবস্থান বিক্ষোভে বসলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী ডাঃ শশী পাঁজা এবং কুণাল ঘোষ। তাঁদের দাবী, দলীয় প্রতিনিধিদের অন্ধকারে রেখে কমিশন ও বিজেপি যোগসাজেশ করে ভেতরে কারচুপি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
গত বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালটগুলি ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে রাখা হয়। বেলেঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটে পর্যন্ত তাঁদের কর্মীরা স্ট্রংরুমের সামনে পাহারায় ছিলেন। কিন্তু এরপর তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঠিক তার পরেই একটি ই-মেল পাঠিয়ে জানানো হয় যে, বিকেল চারটের সময় ফের স্ট্রংরুম খোলা হবে। কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, যদি কর্মীদের সরিয়েই দেওয়া হল, তবে কেন তড়িঘড়ি স্ট্রংরুম খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
এরপরেই স্ট্রংরুমে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ তুলে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটে ধর্নায় বসেন শশী-কুণালার। তৃণমূল প্রার্থীদের দাবী, তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভেতরে ঢুকতে চাইলেও তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছে। লাইভ স্ট্রিমিং বা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে ভেতরে বেশ কিছু মানুষ কাজ করছেন এবং হাতে হাতে ব্যালট পেপার ঘুরছে। অথচ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে যে, ভেতরে বিশেষ কিছু হচ্ছে না।
এই বৈপরীত্য নিয়েই সরব হয়েছেন দুই প্রার্থী। শশী পাঁজা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি পোস্টাল ব্যালটেরই কোনও কাজ চলে, তবে সেই ব্যালটগুলো আচমকা কোথা থেকে এল এবং কেন রাজনৈতিক দলগুলিকে তা আগে জানানো হলো না কেন?
প্রসঙ্গত, এদিন বিকেলেই দলের সকলকে গণনা কেন্দ্র পাহারা দিতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "গণনায় আজ থেকে সবাই যেন সমানভাবে পাহারা দেয়। দরকার হলে আমিও আমার এলাকায় পাহারা দিতে নামব। আমাদের ২৯৪ টা যে প্রার্থী, সবাইকে বলব নিজেরা পাহারা দিন। দিনের বেলায় কর্মীদের রাখুন, রাতের বেলায় নিজেরা থাকুন। আমি যদি পাহারা দিতে পারি আপনারাও পাহারা দিতে পারেন। রাত জাগুন। সকালে অন্য দলকে হস্তান্তর করে তারপর ঘুমাবেন। কারণ কাউন্টিংয়ের জন্য মেশিন নিয়ে যাওয়ার সময় ওটা বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা ওরা করেছে। সুতরাং নজর রাখতে হবে কোনও রকম অবহেলা যেন না হয়। আমি যতক্ষণ সাংবাদিক সম্মেলন করে না বলব ততক্ষণ কেউ গণনার টেবিল ছাড়বেন না।"

No comments:
Post a Comment