কলকাতা, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৫:০১ : নারী সংরক্ষণ বিলের আড়ালে কি সত্যিই বাংলাকে ভাগ করার কোনও গোপন পরিকল্পনা লুকিয়ে আছে? এই প্রশ্ন তুলেই বৃহস্পতিবার কোচবিহারের ঘোকসাডাঙ্গার ছোট শিমুলগুড়ি ময়দানে এক সভা থেকে কেন্দ্রের শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি দাবি করেন, এই বিল আনার মাধ্যমে আসলে উত্তরবঙ্গকে মূল রাজ্য থেকে আলাদা করা এবং নাগরিকপঞ্জির মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সবসময়ই নারীদের জন্য তেত্রিশ শতাংশ সংরক্ষণের দাবিকে সমর্থন করেছে। কিন্তু বর্তমান বিলে যেভাবে আসন পুনর্বিন্যাস বা জনসংখ্যা পরিকল্পনার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে, তা নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তেত্রিশ শতাংশ নারী সংরক্ষণ বিল অনেক দিন ধরেই পড়ে আছে। এর সঙ্গে জনসংখ্যা পরিকল্পনা জুড়ছেন কেন? একসঙ্গে কেন? আপনারা কি বাংলাকে ভাগ করার ষড়যন্ত্র করছেন?”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "এই প্রক্রিয়ার ফলে একদিন কোচবিহার, দার্জিলিং বা উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলা ম্যাপ থেকেই হারিয়ে যেতে পারে।" তাঁর কথায়, “একদিন দেখবেন কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি আর থাকবে না। এদের কোনও লজ্জা, ঘৃণা বা ভয় নেই।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছিল, নতুন জনগণনা সম্পন্ন হওয়ার পর আসন পুনর্বিন্যাস করে তেত্রিশ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। কিন্তু এখন কেন্দ্র সরকার জনগণনার জন্য অপেক্ষা করতে রাজি নয়। ২০১১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে লোকসভায় আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে আটশো পঞ্চাশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিরোধী জোটের অভিযোগ, এর ফলে জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের অজুহাতে বহু মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে বিলটি উপস্থাপিত হলেও তা পাস করানো সহজ হবে না। সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করতে হলে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। লোকসভায় সব ৫৪৩ জন সদস্য উপস্থিত থাকলে অন্তত ৩৬২ জনের সমর্থন দরকার। বর্তমানে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের কাছে ২৯৩টি আসন রয়েছে, আর বিরোধী জোটের শক্তি প্রায় ২৩০ থেকে ২৪০। ফলে ভোটের দিনে সাংসদদের উপস্থিতি ও কৌশলই এই বিলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

No comments:
Post a Comment