ন্যাশনাল ডেস্ক, ২০ এপ্রিল ২০২৬: জাতির উদ্দেশ্যে ১৮ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া ভাষণটি আদর্শ আচরণবিধির (এমসিসি) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, এমনই অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখলেন প্রাক্তন আমলা, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী এবং সাংবাদিকসহ ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি তদন্ত করে পদক্ষেপ করার পাশাপাশি সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন, চিঠি লেখা ব্যক্তিরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) উদ্দেশ্যে করা এক অভিযোগে স্বাক্ষরকারীরা দাবী করেছেন যে, দূরদর্শন, সংসদ টিভি এবং আকাশবাণীর মতো সরকারি প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত এই ভাষণটি আদর্শ আচরণবিধি চলাকালীন "নির্বাচনী প্রচার" এর সমান ছিল।
বর্তমানে আসাম, কেরালা, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ রয়েছে। আসাম, কেরালা এবং পুদুচেরিতে ৯ই এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে, অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে ২৩শে এপ্রিল এবং পশ্চিমবঙ্গে ২৩ ও ২৯শে এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে। ভোট গণনা হবে ৪ঠা মে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ধরণের ভাষণের জন্য সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত সংবাদমাধ্যমের ব্যবহার শাসক দলকে "অন্যায় সুবিধা" দেয় এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সমতার পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করে।
নির্বাচন কমিশনের বিধান উল্লেখ করে অভিযোগকারীরা বলেছেন যে, মন্ত্রীদের ওপর সরকারি কাজের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচার মেলানো এবং সরকারি যন্ত্রের ব্যবহার পক্ষপাতদুষ্ট উদ্দেশ্যের জন্য করা নিষিদ্ধ। চিঠিতে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি আমলে নিতে, ভাষণের বিষয়বস্তু ও ধরণ তদন্ত করতে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এতে এও দাবী করা হয়েছে যে, সম্প্রচারের জন্য যদি পূর্বানুমতি প্রাপ্ত ছিল তাহলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও সার্বজনীন সম্প্রচারের মাধ্যমে সমান সময় বরাদ্দ করা হোক।
স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মোদী সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের স্বামী, রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ পি. প্রভাকর, দিল্লীর প্রাক্তন উপরাজ্যপাল নজীব জং, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ, সংগীতজ্ঞ-লেখক টি.এম. কৃষ্ণ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সচিব ই.এ.এস. শর্মা, সমাজকর্মী হর্ষ মন্দর, সাংবাদিক পি. গুহ ঠাকুরতা, শিক্ষাবিদ জোয়া হাসান এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মধু ভাদুড়ি সামিল রয়েছেন।
অন্যদের মধ্যে রয়েছেন পারদর্শীতা কর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ, প্রাক্তন সরকারি কর্তা আশীষ যোশী, অমিতাভ পান্ডে ও এ. শুক্লা, সাংবাদিক জন দয়াল ও বিদ্যা সুব্রহ্মণ্যম এবং সিপিআই(এম) নেতৃত্ব অ্যানি রাজা, এছাড়াও বেশ কয়েকজন শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও সমাজকর্মীরা রয়েছেন। স্বাক্ষরকারীরা বলেছেন, "নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পবিত্রতা বজায় রাখতে" কমিশনের এই বিষয়ে অবিলম্বে ও দ্রুত পদক্ষেপ করা উচিৎ।

No comments:
Post a Comment