বিরোধীদের বার্তা, রাজ্যগুলোকেও নির্দেশ! মহিলা সংরক্ষণ বিলে সংসদে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, April 16, 2026

বিরোধীদের বার্তা, রাজ্যগুলোকেও নির্দেশ! মহিলা সংরক্ষণ বিলে সংসদে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী

 


প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:১০:০২ :লোকসভায় নারী শক্তি বন্দন বিল নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, দেশে যখন থেকেই মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তখন থেকে প্রত্যেক নির্বাচনে যারা এর বিরোধিতা করেছে, দেশের মহিলারা তাদের ক্ষমা করেননি। তাদের কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, কারণ এই বিল সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে, ফলে কারও রাজনৈতিক লাভ হয়নি।


তিনি বলেন, ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ২৫-৩০ বছর আগেই যদি এই প্রয়োজন মেটানো যেত, তাহলে এটি আরও পরিপক্ব হতো এবং সময়ের সঙ্গে উন্নত করা যেত। ভারতের হাজার বছরের গণতান্ত্রিক বিকাশের ধারায় এটি একটি নতুন অধ্যায় যোগ করার সুযোগ।



তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই সৌভাগ্যবান যে নীতি নির্ধারণের অংশ হতে পেরেছি। আমরা সবাই মিলে দেশকে নতুন দিশা দিতে চলেছি। একবিংশ শতাব্দীতে ভারত নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোচ্ছে এবং বিশ্বমঞ্চেও স্বীকৃতি পাচ্ছে। উন্নত ভারতের লক্ষ্য শুধু উন্নত অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক অগ্রগতি নয়, বরং এমন এক দেশ গড়া যেখানে সবার অংশগ্রহণ থাকবে এবং দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা, অর্থাৎ নারীরাও নীতি নির্ধারণে অংশ নেবে।



তিনি বলেন, তিনি নিজে অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া সমাজ থেকে উঠে এসেছেন এবং এটি সংবিধানের শক্তি যে এমন একজন মানুষ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি দেশ ও সংবিধান প্রণেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।



নারী শক্তিকে তাদের অধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মেয়েরা অসাধারণ কাজ করছে। তাদের অংশগ্রহণ থামিয়ে রাখা উচিত নয়। এটি রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন।



তিনি বলেন, আজকের এই সুযোগে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে উন্নত ভারত গঠনে নারীদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। নারীরা শুধু সিদ্ধান্ত নয়, আমাদের সদিচ্ছাও বিচার করবে। আমাদের মনোভাবের ত্রুটি তারা কখনও ক্ষমা করবে না।



তিনি আরও বলেন, "আমরা নারীদের কিছু দিচ্ছি—এমন ভাবার ভুল করা উচিত নয়। এটি তাদের অধিকার, যা বহু বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছে। আজ সেই ভুল শুধরানোর সময়।"



গত তিন দশকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগে মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা রাজনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। পঞ্চায়েত স্তরে নির্বাচিত বহু নারী নেতৃত্বের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বেড়েছে। আগে তারা বুঝলেও চুপ থাকতেন, এখন তারা স্পষ্টভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করছেন।



তিনি বলেন, যদি কেউ বিরোধিতা করে তবে রাজনৈতিকভাবে তারই লাভ হতে পারে, কিন্তু তিনি কোনও কৃতিত্ব নিতে চান না। অন্যরা কৃতিত্ব নিতে চাইলে নিতে পারেন—তিনি তার জন্যও প্রস্তুত।



তিনি জানান, এই বিলে কোনও রাজ্যের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়নি। দেশের উন্নয়নের জন্য নারীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে দেশের ৯০০-রও বেশি শহরে নারী নেতৃত্বে পৌর প্রশাসন চলছে, যা দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।



শেষে তিনি বলেন, "অতীতের বাধা অতিক্রম করে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে এবং নারীদের জাতীয় উন্নয়নে সম্পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সর্বসম্মতভাবে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে গেলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad