লাইফস্টাইল ডেস্ক, ১৫ এপ্রিল ২০২৬: কিশমিশ একটি শুকনো ফল যা আমরা প্রায় সকলেই খেতে ভালোবাসি। পুজোর ভোগ, মিষ্টি বা দৈনন্দিন খাবার, সব ক্ষেত্রেই কিশমিশ স্বাদ ও পুষ্টি দুটোই যোগ করে। তবে, বাজারে যে চকচকে কিশমিশ পাওয়া যায়, তাতে প্রায়শই ভেজাল থাকতে পারে। এগুলোকে চকচকে করার জন্য রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই আপনি যদি খাঁটি এবং নিরাপদ কিশমিশ চান, তবে বাড়িতেই এটা তৈরি করে নিতে পারেন। আপনি তাজা আঙুর ব্যবহার করে কোনও রাসায়নিক ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে কিশমিশ তৈরি করতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক বাড়িতে কিশমিশ তৈরির সহজ দুটো উপায় এবং ১ কিলোগ্রাম কিশমিশ তৈরি করতে কী পরিমাণ আঙুর প্রয়োজন।
১- রোদে কিশমিশ শুকানোর পদ্ধতি
রোদে কিশমিশ শুকানো একটি ঐতিহ্যবাহী এবং সহজ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে তৈরি কিশমিশ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক হয় এবং এতে কোনও অতিরিক্ত উপাদানের প্রয়োজন হয় না।
এর জন্য ভালো মানের, লম্বা, মিষ্টি এবং তাজা আঙুর প্রয়োজন। আঙুরগুলো যেন নষ্ট বা খুব নরম না হয়।
যেকোনও ধুলো বা ময়লা দূর করার জন্য আঙুরগুলো পরিষ্কার জল দিয়ে ২-৩ বার ভালোভাবে ধুয়ে নিন। তারপর, বোঁটা থেকে আঙুরগুলো আলাদা করে নিন।
এরপর একটি পাত্রে জল গরম করে তাতে আঙুরগুলো দিন এবং ২-৩ মিনিট হালকাভাবে সেদ্ধ করুন। এতে আঙুরের বাইরের স্তর নরম হয়ে যায় এবং দ্রুত শুকিয়ে যায়। যখন আঙুরগুলো জলের উপরে ভেসে উঠবে এবং খোসায় হালকা ভাঁজ দেখা যাবে, তখন সঙ্গে সঙ্গে জল থেকে ছেঁকে তুলে ফেলুন।
এবার, একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় নিয়ে উজ্জ্বল রোদ পড়ে এমন জায়গায় বিছিয়ে দিন। সেদ্ধ আঙুরগুলো কাপড়ের উপর কিছুটা ফাঁকা ফাঁকা করে ছড়িয়ে দিন, যাতে সেগুলো সমানভাবে শুকিয়ে যেতে পারে।
আঙুরগুলো ২-৪ দিন রোদে শুকোতে দিন। রাতে বা যখন আবহাওয়া আর্দ্র থাকে তখন অবশ্যই সেগুলোকে ঘরের ভিতরে নিয়ে আসবেন, যাতে সেগুলো স্যাঁতসেঁতে না হয়ে যায়।
যখন আঙুরগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে যাবে, এর রঙ গাঢ় হয়ে আসবে এবং আঠালো ভাব চলে যাবে, তখন মনে করবেন কিশমিশ তৈরি।
২- ভাপে সেদ্ধ করার পদ্ধতি
হাতে বেশি সময় না থাকলে, আপনি কিশমিশ তৈরির জন্য আঙুরগুলো ভাপিয়েও নিতে পারেন। প্রথমে, একটি বড় পাত্রে জল গরম করুন। এরপর একটি ছিদ্রযুক্ত ছাঁকনি বা স্টিমার প্লেটে সেগুলো রাখুন, যাতে আঙুরগুলো সরাসরি জলের সংস্পর্শে না আসে।
আঙুরগুলো ভালোভাবে ধুয়ে ছাঁকনিতে এক স্তরে ছড়িয়ে দিন। একটির উপর আরেকটি স্তূপ করে রাখবেন না, এতে করে সেগুলো সমানভাবে ভাপে সেদ্ধ হতে পারবে। তারপর, পাত্রটি একটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন।
মাঝারি আঁচে প্রায় ৫ থেকে ৭ মিনিট আঙুরগুলো ভাপিয়ে নিন। ভাপে আঙুরগুলো নরম হয়ে যাবে এবং সেগুলোর রঙ কিছুটা স্বচ্ছ দেখাবে।
তারপর আঙুরগুলো তুলে একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় বা ট্রে-তে ছড়িয়ে দিন এবং ফ্যানের নিচে বা হালকা রোদে শুকিয়ে নিন। কয়েক দিনের মধ্যেই আঙুরগুলো সংকুচিত হয়ে সুস্বাদু, প্রাকৃতিক কিশমিশে পরিণত হবে।
মনে রাখবেন - এক কিলোগ্রাম কিশমিশ তৈরি করতে প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোগ্রাম আঙুর লাগে।

No comments:
Post a Comment