ন্যাশনাল ডেস্ক, ২২ এপ্রিল ২০২৬: উচ্চপদস্থ আমলার বাড়িতে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ পূর্ব দিল্লীর অমর কলোনি এলাকায়। এই ঘটনায় গ্ৰেফতার অভিযুক্ত পরিচারক। বুধবার পুলিশ জানায়, এক ভারতীয় রাজস্ব আধিকারিক (আইআরএস)-এর মেয়েকে তাঁর বাড়িতেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই ঘটনার পর থেকেই বাড়ির এই প্রাক্তন পরিচারক পলাতক ছিল। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজও পেয়েছে, যেখানে তাঁকে ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই পরিচারককে কিছুদিন আগেই কাজ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পরিবার ও পুলিশের সন্দেহ, প্রতিশোধ নিতেই সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বর্তমানে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মৃত তরুণীর বয়স ২২ বছর। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় তরুণী বাড়িতে একাই ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরে তাঁকে অত্যন্ত সন্দেহজনক অবস্থায় নিথর পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। দেখা যায়, তরুণীর গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং কাছে একটি মোবাইল ফোনের চার্জার পড়ে ছিল। এই চার্জারের তার দিয়েই শ্বাসরোধ করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, তরুণীকে যৌন নির্যাতন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে, পুলিশ এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে; ময়নাতদন্তের পরেই ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে দিল্লী পুলিশ মৃত তরুণী পরিবারটির কাছ থেকে একটি ফোন পায়। তাঁদের বাড়ির প্রাক্তন পরিচারক এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। অভিযুক্ত এক মাস আগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর আজ সকালে তাঁদের বাড়িতে এসেছিল। অভিযুক্ত পরিচারকের নাম রাকেশ মীনা, সে রাজস্থানের বাসিন্দা। ঘটনার পর তাকে সিসিটিভিতে রাস্তায় হাঁটতে দেখা যায়। তার পরনে একটি হলুদ শার্ট রয়েছে। ভিডিওতে তাকে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতার বাবা ১৯৯৭ ব্যাচের একজন আইআরএস কাস্টমস অফিসার। ওই তরুণী ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু এমন একটি গুরুতর ঘটনার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। পুলিশ বর্তমানে অভিযুক্ত পরিচারককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্যও অপেক্ষা করছে।
দিল্লী পুলিশের একজন পদস্থ আধিকারিক জানান, ঘটনার সময় তরুণী একা থাকা সুযোগ নিয়েছিল অভিযুক্ত। পরিবারের অভিযোগ এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করছে।

No comments:
Post a Comment